প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ছবি: BDUS News 24
সরকারি কমিটি সব সরকারি ও জেলা পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ, বাদ পড়ছেন আওয়ামীপন্থীরা
দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা এবং জেলা পর্যায়ে গঠিত বিদ্যমান সমস্ত সরকারি কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করার ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো ও অকার্যকর কমিটিগুলো ভেঙে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যেখানে প্রাধান্য পাচ্ছে নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনিক গতিশীলতা। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রমে গতি আনতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এসংক্রান্ত একটি বিশেষ চিঠি জারি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক আশরাফুল ইসলামের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও জেলা পর্যায়ে গঠিত অধিকাংশ কমিটি বহু বছর আগে গঠিত হয়েছিল। আবার অনেক কমিটির সঠিক প্রজ্ঞাপন বা কার্যক্রমের হালনাগাদ তথ্যও সরকারের কাছে নেই। এসব কারণে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন করা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। BDUS News 24-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই নির্দেশের পর থেকেই মাঠ পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠনের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। সরকারি কমিটি
পরাজিত রাজনৈতিক প্রভাব ও কমিটি পুনর্গঠনের মূল কারণ
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই সরকারি বিভিন্ন কমিটিতে থাকা পূর্ববর্তী সরকারের প্রভাবশালীদের নিষ্ক্রিয়তা বা অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। প্রশাসনিক সূত্রগুলোর মতে, দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে বিগত সরকারের সময় এসব কমিটিতে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের আধিক্য রাখা হয়েছিল। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাদের অনেকেই বর্তমানে আত্মগোপনে কিংবা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ফলে নিয়মিত কমিটির সভা আয়োজন বা সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল।
তাছাড়া, পুরোনো ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি সচল রাখলে বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পর্ষদ, যেমন—বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি কিংবা স্থানীয় মনিটরিং কমিটিগুলোতে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরোনো মুখগুলো সরিয়ে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারি কমিটি
নতুন কমিটিতে তিন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নারী প্রতিনিধিত্ব বাধ্যতামূলক
পুনর্গঠিত হতে যাওয়া প্রতিটি কমিটিতে নতুন কিছু নিয়ম ও শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে প্রতিটি কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত একজন নারী সদস্য থাকা আবশ্যক বলে নির্দেশনায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়করাই মূলত এই তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে মনোনীত করবেন।
এদিকে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নেতৃত্বে পরিচালিত প্রায় ৯৮টি গুরুত্বপূর্ণ কমিটিও এই পুনর্গঠনের আওতাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, কৃষি উন্নয়ন কোর কমিটি, ধান সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি এবং ওএমএস ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত জেলা কমিটি। সরকারের ঊর্ধ্বতন মহла আশা প্রকাশ করেছে যে, এই ব্যাপক রদবদলের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্থবিরতা কেটে যাবে এবং সরকারি সেবার মান ও জনস্বার্থ রক্ষা আরও সুদৃঢ় হবে। সরকারি কমিটি
সরকারি কমিটি পুনর্গঠন ও নতুন নির্দেশনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।





