Image Caption: ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে কম্বোডিয়ান প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন গ্যাংস্টার মাইনপাল ধিল্লা। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে এক চাঞ্চল্যকর ও ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। ৫০ বছর বয়সি গ্যাংস্টার মাইনপাল ধিল্লা তার ৩৭ বছর বয়সি কম্বোডিয়ান প্রেমিকা মেটাকে বিয়ে করার জন্য মাত্র ১২ ঘণ্টার কাস্টডি প্যারোল পেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্থায়ী এই সীমিত সময়ের জন্য তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। হরিয়ানার ঝাজ্জর জেলার একটি গ্রামীণ খামারবাড়িতে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও কড়া পুলিশ পাহারায় এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
বিয়ের নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে আবার কড়া নিরাপত্তায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এই বিয়েতে চারপাশ ঘিরে প্রায় ১৫ জনেরও বেশি সশস্ত্র পুলিশ সদস্য ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিহিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নজরদারি চালিয়েছিলেন। পুরো আয়োজনে ছিল টানটান উত্তেজনা ও ভিন্নরকম এক পরিবেশ।
গ্যাংস্টার মাইনপাল ধিল্লার অপরাধের ইতিহাস ও পরিচয়
মূলত হরিয়ানার বাদলি গ্রামের একজন সাধারণ ট্রাক্টর মেকানিক ছিলেন ৫০ বছর বয়সি মাইনপাল ধিল্লা। তবে ২০০০ সালে গ্রামের ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধের জেরে নিজের চাচা হেমচন্দ্রকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে তিনি অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় স্থান পান। পরবর্তীতে তিনি নিজের মামা ওমপ্রকাশকেও হত্যা করেন।
প্রবাসী স্বামীর টাকায় পড়াশোনা: সরকারি চাকরি পেয়েই তালাক দিলেন স্ত্রী
বছরের পর বছর ধরে তার অপরাধের পরিধি আরও বৃদ্ধি পায় এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ডাকাতি, ছিনতাই, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও অবৈধ অস্ত্র মামলার মতো অন্তত ২২টি গুরুতর অপরাধমূলক মামলা दर्ज রয়েছে। বর্তমানে তিনি এসব মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। দীর্ঘ কারাবাসের মধ্যেই কম্বোডিয়ান নাগরিক মেটার সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্যারোল নিয়ে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মাইনপাল ধিল্লা
কড়া পুলিশ পাহারা এবং গোপনীয় বিয়ের আয়োজন
ঝাজ্জর জেলার গুড়গাঁও-ঝাজ্জার সড়কের পাশের একটি খামারবাড়িতে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। বরের আত্মীয়স্বজন এবং তিন সন্তানকে নিয়ে কম্বোডিয়া থেকে আসা কনে মেটা উপস্থিত থাকলেও সেখানে কোনো জমকালো আলোকসজ্জা বা ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আমেজ ছিল না। গেটে পুলিশ সদস্যরা কড়া তল্লাশি চালিয়ে অতিথিদের প্রবেশ নিশ্চিত করেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়।
মণ্ডপে যজ্ঞের মন্ত্র পাঠ ও পুজা চলাকালীন সময়েও ধিল্লার হাতের হাতকড়া কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হয়। নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার মেয়াদ শেষ হওয়ামাত্রই সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বর মাইনপাল ধিল্লাকে পুনরায় কারাবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। হরিয়ানার কারাগারে বন্দি কোনো গ্যাংস্টারের প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসার এটিই প্রথম কোনো ঘটনা নয়, এর আগেও বেশ কয়েকজন কুখ্যাত অপরাধী এমন বিশেষ অনুমতি পেয়েছিলেন।
১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে গ্যাংস্টারের বিয়ের সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পড়তে এখানে ক্লিক করুন





