সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন। (সূত্র: প্রথম আলো / এডিট: বিডিইউএস নিউজ ২৪)
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আসামি গাজী নজরুলকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী জানান যে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকালে ৭৫ বছর বয়সী সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম মামলার ঘটনার সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রদান করেছেন।
ন্যাম ভবনের বারান্দায় ঘুমাতে হতো দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে
মামলার তদন্ত নথিতে প্রকাশ পেয়েছে যে, গত ১৭ জুন ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনকে বিয়ে করেন তৎকালীন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। পরবর্তীতে নিজ এলাকায় তাদের কাবিন রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর মরিয়মকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের পঞ্চম তলায় প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলামের সাথে বসবাস করার সুযোগ দেওয়া হয়।
তবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান যে, প্রথম স্ত্রীর সাথে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে বসবাসকালে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হতো না। ফ্ল্যাটের মূল শয়নকক্ষে প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে নিয়ে থাকতেন গাজী নজরুল, আর তরুণী স্ত্রী মরিয়মকে মাঝেমধ্যে শয়নকক্ষের পাশের বারান্দা বা ব্যালকনিতে রাতযাপন করতে বাধ্য করা হতো। রিমান্ডে প্রাপ্ত এসব তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে যে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েই মরিয়ম চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনা ও আইনি পদক্ষেপ
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরপরই পুলিশ সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে হেফাজতে নেয়। রাতেই নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
গাজী নজরুল ইসলাম
আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে যুক্তি তুলে ধরে বলেন যে গাজী নজরুল ইসলাম একজন বয়োবৃদ্ধ প্রবীণ নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী। তবে সব পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন মঞ্জুর না করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ বলবৎ রাখেন। মামলাটির তদন্ত বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) নিবিড় তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী গ্রেফতার





