ঢাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযান। (ছবি: সংগ্রহ / এডিট: BDUS News 24)
ঢাকা হকার সমস্যা
ঢাকা শহরের রাস্তাঘাট ও ফুটপাত যেভাবে হকারদের দখলে চলে গেছে, তাতে রাজধানীজুড়ে এক ধরনের চরম নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হকারদের এই দখলদারির কারণে সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন তীব্র যানজট ও অপূরণীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। এই নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর ও সুশৃঙ্খল পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
তবে প্রশ্ন উঠেছে যে, হকারদের দমনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যে পুরোনো কায়দার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়, তা কি আদৌ কোনো স্থায়ী সমাধান আনতে পারে? অতীতের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, আকস্মিক বুলডোজার বা এক্সকাভেটর দিয়ে দোকানপাট ভাঙার এই সনাতন পদ্ধতি হকার সমস্যার কোনো সুরাহা করতে পারেনি; বরং এর ফলে সংঘাত, গাড়ি ভাঙচুর এবং জনদুর্ভোগ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
হকার উচ্ছেদ অভিযান বনাম সংঘাতের নির্মম বাস্তবায়ন
সম্প্রতি মিরপুর এলাকায় হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা প্রমাণ করে যে সুনির্দিষ্ট ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছাড়া হকারদের বিরুদ্ধে আকস্মিক অভিযান চালানো কতটা বোকামি। অতীতে কারওয়ান বাজার বা গুলিস্তান এলাকার বিভিন্ন অভিযানেও দেখা গেছে, সিটি করপোরেশনের লোকজন চলে যাওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে হকাররা আবার আগের মতো পসরা সাজিয়ে বসে পড়েছে।
এ ধরনের হকার উচ্ছেদ অভিযানের পেছনে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং মাঠপর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। হকারদের পেছনে থাকা প্রভাবশালী চাঁদাবাজ চক্র এবং ভাগ-বাঁটোয়ারার গভীর শিকড় না ভেঙে শুধু উচ্ছেদ-উচ্ছেদ খেলা চালিয়ে যাওয়ার কারণে কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে না। লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা ও দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে কেবল ঢালাওভাবে হকার উচ্ছেদ করা অসম্ভব।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলার রূপরেখা
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও হকারদের জন্য একটি নির্দিষ্ট নিয়মশৃঙ্খলা ও নীতিমালা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। যত্রতত্র হকারদের বসা রোধ করতে ঢাকা হকার সমস্যা সমাধানের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু মোড় বা মেট্রোরেলের স্টেশনগুলোকে কেন্দ্র করে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।
সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ফুটপাতের মাপ ও ধারণক্ষমতা বিবেচনা করে দাগ টেনে বা সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করে বৈধ উপায়ে ব্যবসা করার সুযোগ করে দেওয়া যেতে পারে। কোনো অবস্থাতেই মূল রাস্তায় দোকান বসতে দেওয়া যাবে না এবং নির্ধারিত নিয়মের বাইরে কেউ গেলে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নিয়মিত তদারকি এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হকার সমস্যার একটি স্থায়ী ও জনবান্ধব সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছরেই অনড় সরকার, সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে এল নতুন প্রস্তাব





