এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। (ছবি: সংগ্রহ / সোশ্যাল মিডিয়া / এডিট: BDUS News 24)
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তিনি সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে জানতে চেয়েছেন যে, একসময়ের ৬ হাজার টাকা বেতনের একজন সাধারণ সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে পরবর্তী সময়ে কোটি টাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বিপুল সম্পত্তির মালিক হলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই প্রশ্ন রাখেন।
এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, নির্বাচনী হলফনামার তথ্য অনুযায়ী ২০০৮ সালে সালাহউদ্দিন-হাসিনা দম্পতির মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৬ দশমিক ৩ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে সেই সম্পদ বেড়ে দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৭ কোটি টাকায় এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী তা এসে ঠেকেছে ৩০ কোটি টাকায়। এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের উৎস কী এবং কীভাবে স্বল্প আয়ের চাকরি থেকে এত বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে উঠল, তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ
সালাহউদ্দিন আহমেদের অতীত ও হাসনাত আব্দুল্লাহর বিশ্লেষণ
পোস্টে তুলে ধরা তথ্যানুযায়ী, সালাহউদ্দিন আহমেদ ১৯৮৫ বিসিএস ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৯৬ সালে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে সরকারি চাকরিমুখী জীবনে তাঁর ব্যবসা করার কোনো সুযোগ বা বৈধতা ছিল না। ১৯৯৬ সালে সিনিয়র সহকারী সচিব পদ থেকে যখন তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, তখন মূল বেতন ও ভাতা মিলিয়ে তার মাসিক আয় বড়জোর ৬ হাজার টাকা ছিল। বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে তুলনা করলে তখনকার সেই ৬ হাজার টাকা বর্তমানের ৪০ হাজার টাকার চেয়েও অনেক কম।
হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন যে, আজ থেকে প্রায় দুই দশক আগেও রাজধানীর গুলশানের মতো অভিজাত এলাকায় প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাটের দাম কমবেশি সাড়ে ৩ হাজার টাকা ছিল। সেই হিসাবে ৩ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাটের দাম ওই সময়েই কোটির ঘর ছাড়িয়ে যেত। এ ছাড়া অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ঘুষ নেওয়ার মামলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতিতে আসা এবং পরবর্তী সময়ে মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হওয়ার পর এত অল্প সময়ে এই বিশাল সম্পদের পাহাড় গড়ার হিসাব মেলানো সাধারণ মানুষের কাছে এক বিরাট রহস্য।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি
সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ কেবল একজন নির্দিষ্ট মন্ত্রীর সম্পদের হিসাব নিয়েই প্রশ্ন থামিয়ে রাখেননি, বরং তিনি দেশের গোটা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন মহলের ব্যাংক হিসাব তলব করার সংস্কৃতি চলছে, যা মূলত সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার কারণে করা হচ্ছে বলে অনেকের আশঙ্কা। যদি রাষ্ট্র সত্যিই জনকল্যাণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তবে তা পক্ষপাতহীন হওয়া উচিত।
তিনি জোরালো দাবি জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি এমপি-মন্ত্রী এবং তাঁদের নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাব প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় স্বার্থে তলব করা হোক। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি মন্তব্য করেন যে, এই স্বচ্ছতার কার্যক্রম তাঁর নিজের অ্যাকাউন্ট দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা যেভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ও পরের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেছেন, বর্তমান প্রশাসন সেই সৎ সাহস দেখাতে পারে কি না—সেটি এখন দেখার বিষয় বলে উল্লেখ করেন এই সংসদ সদস্য।
ঢাকা শহরের হকার সমস্যা: পুরোনো উচ্ছেদ কৌশল বাদ দিয়ে প্রয়োজন স্থায়ী ও বাস্তবসম্মত





