কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে সড়কজুড়ে মিশুক-ইজিবাইকের জটলা। ছবি সূত্র: প্রথম আলো | সংগ্রহ ও পরিবেশনায়: BDUS News 24।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা
কুমিল্লা শহরজুড়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে মূল সড়কে তীব্র যানজট লেগেই থাকছে। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এই যান্ত্রিক বাহনগুলো এখন নগরবাসীর নিত্যদিনের যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শহরের কান্দিরপাড় থেকে পদুয়া বাজার বিশ্বরোডের দূরত্ব মাত্র পাঁচ কিলোমিটার হলেও এই পথ পার হতে এখন সাধারণ মানুষের পৌনে এক ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় অপচয় হচ্ছে। অথচ স্বাভাবিক নিয়মে মোটরযানে এই পথ পাড়ি দিতে বড়জোর ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগার কথা। ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেনের মা রোজিনা আক্তার জানান, বাসা থেকে স্কুলে যাওয়ার সংক্ষিপ্ত পথটুকু পাড়ি দিতেও এখন দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা
অটোরিকশার আধিক্য ও নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল
ট্রাফিক পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে কুমিল্লা শহরজুড়ে প্রায় ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার মিশুক ও ইজিবাইক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এত বিপুল পরিমাণ যানবাহনের চাপে ট্রাফিক বিভাগেও তৈরি হয়েছে তীব্র নিয়ন্ত্রণ সংকট। বেপরোয়া গতির এসব যানের কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। অতীতে দ্রুতগতির অটোরিকশার ধাক্কায় পা হারানো সাংবাদিক আনোয়ার হোসাইনের মতো বহু মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা
এদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, বিশৃঙ্খলা রোধে শহরে মোট সাত হাজার অটোরিকশার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার মিশুক ও দুই হাজার ইজিবাইক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সিটি প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই নির্ধারিত পোশাক ও পরিচয়পত্রের আওতায় বৈধ যানবাহনগুলো পরিচালিত হবে এবং অনুমোদনহীন কোনো বাহনকে শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা
গ্যারেজভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ও টোকেন বাণিজ্য
অনুসন্ধানে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে নির্দিষ্ট কিছু নম্বর বা সংকেতযুক্ত গ্যারেজের মিশুকগুলো ট্রাফিক পুলিশের বাধা ছাড়াই চলাচল করে। চালকদের ভাষ্যমতে, মাসিক নির্দিষ্ট ফি বা ‘মান্থলি’ লেনদেনের মাধ্যমে এই গ্যারেজগুলো থেকে বাহনগুলো নিয়ন্ত্রিত হয়। তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাঁদাবাজি বা টোকেনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করা হয়েছে। শহরবাস্টার দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কুমিল্লার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা
জাকসু নিয়ে শিক্ষকের ‘অফার’, জাবি ছাত্রদলের দুই নেতা-নেত্রী বহিষ্কার






