জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: সংগৃহীত
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি সরকারের তরফ থেকে হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। জামায়াতের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, এভাবে অল্প সময়ের ব্যবধানে দফায় দফায় জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চরম দুর্ভোগ নেমে আসবে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে গভীর সংকট
রাজধানীর বায়তুল মোকারম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মাত্র সাত মাসের মধ্যে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। পেট্রল, ডিজেল, অকটেন ও কেরোসিনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সামগ্রিক বাজারে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রায়ই লোকসান বা ভর্তুকির অজুহাত দেওয়া হয়। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে ভর্তুকি সামলানো সরকারের প্রধান দায়িত্ব। একে একটি সাধারণ বাণিজ্যিক দোকানের সঙ্গে তুলনা করা চলে না। জনগণের করের টাকায় ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে টালবাহানা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সরকার পরিচালনার ব্যর্থতা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন খাতের অব্যবস্থাপনা এবং অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে দেশের অর্থনীতি আজ খাদের কিনারায় এসে ঠেকেছে। জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য খাতের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা অবিলম্বে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
BDUS News 24-এর আজকের বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এ ধরনের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হবে। বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করা না হয়, তবে দেশব্যাপী আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এছাড়া সমাবেশে জামায়াতের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি
জামায়াতের মূল বক্তব্য ও দাবি
লিটারপ্রতি ২০ টাকা মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে।
আন্তর্জাতিক বাজারের দায় জনগণের ওপর চাপানো জনকল্যাণমূলক নয়।
বিকল্প ব্যবস্থা ও অপচয় রোধ না করে দাম বাড়ানো অগ্রহণযোগ্য।
বর্ধিত মূল্য দ্রুত প্রত্যাহার না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি।
সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব
- পরিবহন খরচ ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে।
- কৃষিখাত ও উৎপাদনমুখী শিল্পে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দেবে।
- সার্বিক মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন





