বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের প্রতিবাদে একটি সচেতনতামূলক ইলাস্ট্রেশন । ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য কিশোরীর চোখেই থাকে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা কিংবা শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু সামাজিক কুসংস্কার, অসচেতনতা আর দারিদ্র্যের বেড়াজালে পড়ে সেই স্বপ্নগুলো অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সমাজে বাল্যবিবাহ একটি নীরব মহামারীর রূপ ধারণ করেছে, যা কেবল একটি মেয়ের শৈশবই কেড়ে নিচ্ছে না, বরং তার পুরো ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিচ্ছে। BDUS News 24-এর আজকের বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই নির্মম বাস্তবতার পেছনের করুণ চিত্র।
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স আঠারো বছর নির্ধারিত থাকলেও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাবে এই অপরাধ পুরোপুরি থামানো যাচ্ছে না। আইনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গোপনে বা বিভিন্ন সামাজিক ফাঁকফোকর দিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা এখনো সমাজ থেকে দূর হয়নি।
কিশোরীদের স্বপ্নভঙ্গের প্রধান কারণসমূহ
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিচালিত নানা পরিসংখ্যান ও গবেষণায় দেখা গেছে যে, আজও বহু পরিবারে মেয়েদের উচ্চশিক্ষার চেয়ে তাদের বিয়ে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। অনেক অভিভাবক সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা এবং অর্থনৈতিক সংকটের অজুহাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দিয়ে থাকেন।
বাল্যবিবাহ কেবল একটি সামাজিক ব্যাধি নয়, এটি শিশু অধিকারের চরম লঙ্ঘন। এর ফলে কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং তারা নিজেদের জীবন নিয়ে কোনো স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়ার হার বেড়ে যাওয়ার পেছনেও এই বাল্যবিবাহ একটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। বাল্যবিবাহ
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর এর প্রভাব বাল্যবিবাহ
অল্প বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কারণে কিশোরী বধূদের জীবনে নেমে আসে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি। চিকিৎসকদের মতে, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের মধ্যে মাতৃত্বকালীন জটিলতা এবং কম বয়সে সন্তান প্রসবের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এর ফলে অপরিণত শিশুর জন্ম, মাতৃমৃত্যু এবং নবজাতকের মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। পাশাপাশি, বাল্যবিয়ে হওয়া মেয়েদের একটা বড় অংশ সংসারের ঘানি টানতে গিয়ে গৃহস্থালী সহিংসতার শিকার হন।
এই অভিশাপ থেকে মুক্তির উপায়
বাল্যবিবাহের মতো এই সামাজিক অপরাধ রোধ করতে হলে কেবল আইন কঠোর করলে চলবে না, সমাজের দৃষ্টিভঞ্জিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সচেতনতা বৃদ্ধি, মেয়েদের উপবৃত্তি ও শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। তবেই আমাদের কিশোরীরা বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার একটি নিরাপদ পরিবেশ পাবে। সমাজ সচেতনতা এবং আইনের কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল এই অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করা সম্ভব। বাল্যবিবাহ
বাল্যবিবাহ কীভাবে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে তা বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।





