কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের দৃশ্য। (ছবি: প্রথমালো / এডিটকৃত: BDUS News 24
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বসা ও উচ্চ স্বরে কথা বলাকে কেন্দ্র করে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারি লাইব্রেরির কথাকাটাকাটি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত
প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বসা এবং উচ্চস্বরে কথা বলা নিয়ে প্রকৌশল অনুষদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রত্নতত্ত্ব ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়।
প্রাথমিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা প্রক্টর কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সেখানে আলোচনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার সমাধানও করা হয়েছিল। তবে প্রক্টর কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর এবং প্রধান ফটকের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি পায়।
ধাওয়া-পাল্টাপাল্টি এবং হলের ভেতরে উত্তেজনা
প্রক্টর অফিস থেকে বের হওয়ার পরপরই আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্য পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ধাওয়া খেয়ে শিক্ষার্থীরা প্রকৌশল অনুষদ ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের দিকে চলে যান।
শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব ও শাকিলের সঙ্গে আইসিটি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর আগের বিরোধের জের ধরেই মূলত এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। সংঘর্ষের সময় শাকিলকে ধাওয়া করা হলে তিনি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সংঘর্ষ বেধে যায়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারি
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বিকেলে ছুটির সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কিছু সময় শহরমুখী বাস আটকে রাখলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম এম শরিফুল করীম গণমাধ্যমকে জানান, দুপুরের দিকে লাইব্রেরির ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হলেও পরবর্তীতে কয়েকজন হলে গিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেন।
ঘটনার বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সাংবাদিকদের ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে। হামলায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারি
কুমিল্লায় দাউদকান্দি থানায় হাঙ্গামা: দরজা ভেঙে বেরিয়ে গেল ২২ কিশোর





