ভাঙচুরকৃত থানার ভেতরের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত / BDUS News 24
কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে, যেখানে সন্দেহভাজন হিসেবে আটককৃতদের মধ্য থেকে ২২ জন কিশোর হট্টগোল করে থানার দরজা ও আসবাবপত্র ভেঙে বেরিয়ে গেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনার সময় থানার প্রধান ফটকের সামনে কিশোরদের স্বজন ও স্থানীয় জনতা ভিড় জমান এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। BDUS News 24-এর আজকের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, পুলিশি অভিযানে কিশোর গ্যাং দমনের অংশ হিসেবে তাদের আটক করা হয়েছিল। কুমিল্লা
অভিযান ও থানায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি
সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সী কিশোরদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এই ধারাবাহিকতায় দাউদকান্দি এলাকা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে ২৮ জন কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, আটককৃতরা সবাই স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং বিভিন্ন বখাটেপনায় লিপ্ত ছিল।
তবে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন থানায় উপস্থিত হতে শুরু করেন। স্বজনদের দাবি, আটকদের অনেকের বিরুদ্ধেই পুলিশের অপরাধ সংক্রান্ত খাতায় কোনো পূর্ব রেকর্ড বা অভিযোগ নেই। একপর্যায়ে থানার ভেতরে থাকা আটক কিশোরদের একটি অংশ ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে এবং দরজা ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসে। পরে তারা থানার সামনে এসে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করে, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কুমিল্লা
পুলিশের বক্তব্য ও সার্বিক পরিস্থিতি কুমিল্লা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম হ্যান্ডমাইকে বক্তব্য দিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা চালান। ওসি জানান, অপ্রয়োজনে ঘোরাঘুরি করার কারণে সন্দেহভাজন হিসেবে মোট ২৮ জনকে আনা হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং অভিভাবকদের আপত্তির মুখে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ২২ জন কিশোরকে মুচলেকা বা অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয়জনের বিরুদ্ধে পূর্বের অপরাধের রেকর্ড যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই বিশেষ অভিযানে পুরো জেলা থেকে মোট ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। কিশোর অপরাধ দমনে এবং সমাজ থেকে কিশোর গ্যাং কালচার নির্মূল করতে জেলা পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। কুমিল্লা





