সংবিধান সংশোধন কমিটির সংবাদ সম্মেলন। (ছবি: সংগৃহীত / bd-pratidin.com / এডিট: BDUS News 24)
বাংলাদেশের রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা আনতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট টকশো ব্যক্তিত্বরা অংশ নিয়ে সংবিধানের নানা দিক নিয়ে নিজেদের সুচিন্তিত মতামত ও লিখিত প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
বৈঠকে অংশীজনদের দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়ার কথা জানানো হয়। বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একজন ব্যক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ নির্দিষ্ট করার বিষয়টি।
সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর রাখার পক্ষে অনড় অবস্থান
সাম্প্রতিক আলোচনা ও বিভিন্ন মহলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও ব্যক্তিতান্ত্রিক বা স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণের প্রাথমিক প্রস্তাব থেকে সরে আসেনি সরকার। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন থাকাকালীনই এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং তা নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
যদিও কিছু সমালোচক মনে করেন যে একজন জনপ্রিয় নেতার ক্ষেত্রে এই মেয়াদ বেঁধে দেওয়া পুরোপুরি গণতান্ত্রিক নয়, তবুও সরকার দলীয় অবস্থান অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তেই অনড় রয়েছে। তবে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যদি সংসদের বিরোধী দলগুলো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নেয়, তবে জুলাই জাতীয় সনদের বিভিন্ন প্রস্তাব ও ভিন্নমত নিয়ে সমঝোতার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ নিয়ে আলোচনা
বিশেষ কমিটির এই বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার গঠনপ্রক্রিয়া এবং এর রূপরেখা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের সাথে আরও খোলামেলা আলোচনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, একক রাষ্ট্র কাঠামোয় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মতামত এসেছে। অনেক সাংবাদিক ও বিশ্লেষক মনে করেন উচ্চকক্ষ গঠন করলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে জুলাই জাতীয় সনদে এই বিষয়ে ঐকমত্য থাকায় সরকার সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেই এগিয়ে যেতে চায়। পরিশেষে, সব পক্ষের মতামত যাচাই করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী প্রতিবেদন খুব শীঘ্রই জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে বলে জানিয়েছে বিশেষ কমিটি। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর
আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী





