স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রেস ব্রিফিংয়ের ফাইল ছবি। (সোর্স: Facebook / এডিট: BDUS News 24)
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের অবনতি ঘটানোর পাঁয়তারা করা হলে তা কঠোর হাতে প্রতিহত করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ দুপুরের দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক নানা বিষয় ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
মন্ত্রী জোরালো কণ্ঠে বলেন, অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না; অপরাধী মানেই অপরাধী এবং তাদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রেস ব্রিফিং চুম্বক অংশ
রাজধানীর জাসদ কার্যালয়ে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া একটি বৈঠক ও তৎপরবর্তী পুলিশি অভিযান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সুনির্দিষ্ট গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে ওই কার্যালয়ের ভেতর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু লোকজন একত্রিত হয়ে বিভিন্ন নাশকতামূলক পরিকল্পনায় লিপ্ত রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। প্রাথমিক পর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রায় ২৮০ জনকে আটক করা হলেও যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের বেশিরভাগকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে বর্তমান সময়ে অধিকতর ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে মাত্র ২৭ জনকে হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, জব্দকৃত মোবাইল ফোনগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার পর যদি নাশকতার সাথে সম্পৃক্ততার উপযুক্ত প্রমাণ মেলে, তবেই তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কাউকে বিনা কারণে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই অভিযান চালানো হয়নি।
জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর এবং চাঁদা আদায়ের অভিযোগের বিতর্ক প্রসঙ্গে মন্ত্রী পরিষ্কার করেন যে, ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদী এলাকায় প্রায় ৩৫ কাঠা আয়তনের একটি বিতর্কিত সম্পত্তি নিয়ে ‘নিউ গিনি প্রপার্টিজ’ নামের একটি রিয়েল এস্টেট বিল্ডার কোম্পানি এবং এক অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ লেগেই ছিল। এরই জেরে গত রাতে উক্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে একপক্ষ জোরপূর্বক দখল নিতে গেলে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের টিনশেড স্টুডিওটি ভাঙচুরের মুখে পড়ে।
পরবর্তীতে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে কার্তুজের খোসাসহ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে বিএনপিকে চাঁদাবাজ হিসেবে দলীয়ভাবে অভিযুক্ত করা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বয়ং ভুক্তভোগী ব্যক্তি নিজেই গণমাধ্যম বা লাইভে স্বীকার করেছেন যে তাঁর কাছে কেউ কোনো চাঁদা দাবি করেনি।
মন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ কিংবা লিখিত অভিযোগ বা মামলা ছাড়া এ ধরনের ঢালাও অভিযোগের কোনো আইনি ভিত্তি থাকতে পারে না। ভুক্তভোগী যদি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেন, তবে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টির সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রেস ব্রিফিং
অন্যদিকে, মিরপুরের শাহআলী থানা এলাকার রাড্ডা ক্লিনিকে সংঘটিত হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তার প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি জানান, গত ২৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ঘটিত ওই ঘটনায় শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তাৎক্ষণিক পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে ডিএমপি কমিশনারকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল এবং পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তারসহ বেশ কিছু খোয়া যাওয়া মালামাল ও আলামত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত সব অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রেস ব্রিফিং
পুলিশ বাহিনীতে অপরাধ ও গাফিলতির কোনো ছাড় নেই
রাজপথের চলমান আন্দোলন ও ককটেল বিস্ফোরণ সংক্রান্ত এক রাজনৈতিক নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘ভারসাম্যহীন ও অসংলগ্ন’ আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য না করে পুরো বিষয়টি বিচার ও মূলهয়নের ভার সম্পূর্ণভাবে সচেতন দেশবাসীর ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, কেবল বদলি করে দায় সারাই শেষ কথা নয়; বরং কোনো পুলিশ কর্মকর্তা যদি সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধের সাথে জড়িত থাকেন, তবে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি নিয়মিত ফৌজদারি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ইতিপূর্বে ক্যান্টনমেন্ট থানার এক সাবেক ওসির বিরুদ্ধে ফরেনসিক পরীক্ষা, নিবিড় তদন্ত ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা দায়ের এবং গ্রেপ্তারের উদাহরণ টেনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পুলিশ বাহিনীর ভেতর কোনো ধরনের অপরাধ বা শৃঙ্খলাভঙ্গ বরদাশত করা হবে না।
পরিশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, সাধারণ মানুষের নাগরিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে বর্তমান সরকার সবসময় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রেস ব্রিফিং
তিন জেলার নেতাদের নিয়ে তারেক রহমানের সাংগঠনিক বৈঠক: তৃণমূলকে শক্তিশালী করার নির্দেশ





