জাবি ছাত্রদল নেত্রী আঞ্জুমান ইকরা এবং তার বহিষ্কারাদেশের কেন্দ্রীয় প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের নেত্রী আঞ্জুমান ইকরাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। গত বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তবে ঠিক কী কারণে তাকে এই শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
বহিষ্কৃত আঞ্জুমান ইকরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সর্বশেষ জাকসু নির্বাচনে তিনি ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে নারী এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তিনি অত্যন্ত সক্রিয় এবং পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত।
ফেসবুক পোস্ট ও আঞ্জুমান ইকরা বহিষ্কারের নেপথ্য কারণ
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ও সহপাঠীদের দাবি, এক শিক্ষিকাকে নিয়ে দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টের জের ধরেই আঞ্জুমান ইকরাকে এই শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। জানা গেছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা ছাত্রদলের সদস্য সচিবকে হুমকি দিয়েছেন—এমন একটি সংবাদ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন ইকরা। আর সেই পোস্ট নিয়েই দলের ভেতর তৈরি হয় বিতর্ক।
ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, আঞ্জুমান ইকরাকে তিনি সর্বদা একজন স্পষ্টভাষী, স্বাধীনচেতা ও সত্য বলতে সাহসী শিক্ষার্থী হিসেবেই দেখেছেন। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই বা সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশে তেল নেই তো হাজার হাজার গাড়ির লংমার্চ কীভাবে? প্রশ্ন শামা ওবায়েদের।
নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নীরবতা
এদিকে কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) ছাড়াই সরাসরি বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্তকে অন্যায্য ও পক্ষপাতমূলক বলে দাবি করেছেন জাবি ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী। ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার হক মজুমদার শিমুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইকরা জাবি ছাত্রদলের অন্যতম একজন লড়াকু ও সক্রিয় কর্মী ছিলেন। নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তার বড় অবদান রয়েছে। ভুল বোঝাবুঝি বা কোনো পক্ষের মন রক্ষা করতে এমন একজন কর্মীর ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অপ্রত্যাশিত।
অন্যদিকে, এই বহিষ্কারের পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক আবেগঘন পোস্টে আঞ্জুমান ইকরা লেখেন, “আমার হাত বান্ধিবি, পা বান্ধিবি মন বান্ধিবি কেমনে? আমার চোখ বান্ধিবি, মুখ বান্ধিবি পরান বান্ধিবি কেমনে?” পুরো ঘটনা নিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিকের কাছে সাংবাদিকরা মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
জাবি ছাত্রদল নেত্রী আঞ্জুমান ইকরার বহিষ্কারের পেছনের পুরো ঘটনাটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন





