মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের কাগজ হাতে ভুক্তভোগী গ্রাহক। (ছবি: সংগৃহীত
মাগুরায় বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি টাকা
দেশের বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতা নিয়ে প্রায়শই নানা আলোচনা-সমালোচনা শোনা যায়। তবে এবার মাগুরা জেলা থেকে এমন একটি ঘটনা সামনে এসেছে যা সাধারণ মানুষকে পুরোপুরি হতবাক করে দিয়েছে। মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচের বিপরীতে মাগুরার এক সাধারণ গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি টাকারও বেশি বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। এই আজগুবি ও অবিশ্বাস্য ঘটনার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামে। ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের আবাসিক প্রিপেইড বা পোস্টপেইড সংযোগে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিলে এই অস্বাভাবিক কাণ্ড ঘটে। সামান্য কিছু বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এত বিশাল অঙ্কের বিল দেখে প্রথমে গ্রাহক ও তার পরিবার বড় ধরনের মানসিক ধাক্কা খান। মাগুরায় বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি টাকা
মাগুরায় বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি টাকার পেছনের আসল রহস্য
বিল বিবরণী খতিয়ে দেখা গেছে, আলোচিত ওই গ্রাহক পুরো মাসে মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছিলেন। যার প্রকৃত সরকারি মূল্য বা বিল হওয়ার কথা ছিল মোটে ১ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং বিলম্ব মাশুলসহ মাত্র ২ হাজার ৫৬ টাকা। কিন্তু বিলের কাগজে ডিমান্ড চার্জের ঘরে ৪৬২ কোটি টাকার বেশি অংক বসিয়ে দেওয়ায় ভ্যাট ও অন্যান্য ফি যোগ হয়ে মোট বিল গিয়ে ঠেকে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকায়। এমনকি নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধ না করলে এই অংক ৫৩০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।
এই অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য ভুল ধরা পড়ার পর স্থানীয় গ্রাহকদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে এটি কেবল কোনো সাধারণ ভুল নয়, বরং বিদ্যুৎ বিভাগের চরম খামখেয়ালিপনার বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের দায়িত্বহীন ভুলের কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তির শিকার হন। মাগুরায় বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি টাকা
পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির বক্তব্য ও সর্বশেষ আপডেট
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শালিখা উপজেলার চুকিনগরে অবস্থিত মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসে যোগাযোগ করা হয়। সেখানকার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান যে মিটার পরিবর্তনের সময় সিল নম্বরের ডিজিট ভুলবশত ডিমান্ড চার্জের ঘরে টাইপ হয়ে যাওয়ায় এই বিপত্তি ঘটেছিল।
এদিকে, মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে এটি একটি টাইপিং মিসটেক বা অনভিপ্রেত ভুল ছিল। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিলটি সংশোধন করে সঠিক পরিমাণ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এবং গ্রাহক ইতিমধ্যে সেই সংশোধিত বিল পরিশোধও করেছেন। পাশাপাশি, এই ভুলের সাথে যে বা যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মাগুরায় বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি টাকা
আদানির বিদ্যুতের সুইচ ভারতের হাতে, যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে: রুহুল কবির রিজভী





