জাতিসংঘে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্যান্য বিশ্বনেতাদের উপস্থিতির একটি মুহূর্ত। ছবি: দৈনিক ইত্তেফাক / BDUS News 24
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একসময়ের ছোট ও সংকীর্ণ কোণার কক্ষ ছেড়ে বড় পরিসরে মূলধারায় স্থান পাওয়াকে নিজেদের জন্য এক ‘বিরাট পদোন্নতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলাকালে আয়োজিত ‘সামাজিক ব্যবসা, তরুণ ও প্রযুক্তি’ শীর্ষক সাইড ইভেন্টের ১১তম আসরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রসাত্মক ও আনন্দঘন অনুভূতি প্রকাশ করেন। BDUS News 24-এর আজকের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, বৈশ্বিক এই আয়োজনে ড. ইউনূসের এমন প্রাণবন্ত মন্তব্য উপস্থিত বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি কেড়েছে।
সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী দিনে আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান এবং তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট ও ড. ইউনূসের দীর্ঘদিনের বন্ধু জোসে রামোস-হোর্তা। এছাড়া ব্রাজিলের মন্ত্রী ওয়েলিংটন দিয়াসসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ড. ইউনূস তাঁর বক্তব্যে অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, পূর্বে এমন গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের জন্য জাতিসংঘের অত্যন্ত ছোট একটি কোণার কক্ষে স্থান বরাদ্দ মিলত, যেখানে সবাইকে তিল ধারণের ঠাঁই দেওয়া যেত না।
তবে বর্তমান সময়ে সঠিক স্থানে বন্ধুদের উপস্থিতি এবং বড় পরিসরে বসার ব্যবস্থা পাওয়ায় কক্ষ ও আয়োজন দুটোই বেশ প্রশস্ত হয়েছে। হাসিমুখে তিনি যোগ করেন যে, এটি তাঁদের জন্য এক বিরাট পদোন্নতি, যদিও ভবিষ্যতে আবার সেই ছোট কোণার ঘরে ফিরে যেতে হয় কি না, তা কেবল সময়ই বলে দেবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস
ড. মুহাম্মদ ইউনূস: ক্ষুদ্রঋণের সাফল্য ও গ্রামীণ ইউনিভার্সিти যাত্রার ঘোষণা
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল ও বিভ্রান্তিকর ভাষার বিপরীতে সাধারণ মানুষ যেন শান্তি ও ন্যায্যতার খুব স্পষ্ট বার্তা পায়, সেই জোরালো প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ড. ইউনূস। একই সঙ্গে তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের সাধনা ক্ষুদ্রঋণের ৫০ বছর পূর্তি এবং বিশ্বজুড়ে সামাজিক ব্যবসার অবিশ্বাস্য বিস্তার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কসহ পুরো দেশজুড়ে ‘গ্রামীণ আমেরিকা’ কর্মসূচি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ সফলভাবে বিতরণ করেছে এবং প্রায় শতভাগ ঋণ পরিশোধের অনন্য রেকর্ড গড়ে দেখিয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস
এছাড়া বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসার কাঠামোর অধীনে গড়ে ওঠা ১৫৩টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, আধুনিক টেলিমেডিসিন নেটওয়ার্ক এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ চক্ষু হাসপাতালের উদাহরণ টেনে তিনি জানান যে, এসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের অর্থ পুনরায় ব্যবসার উন্নয়নে বিনিয়োগ করার মাধ্যমেই আজ এগুলো পুরোপুরি স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে।
অনুষ্ঠানের একেবারে শেষ পর্যায়ে অধ্যাপক ড. ইউনূস এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়ে জানান যে, সনাতনী পন্থায় কেবল চাকরিপ্রত্যাশী তৈরি করার শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তে আগামী ডিসেম্বর মাস থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’। শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই ব্যতিক্রমী বিশ্ববিদ্যালয়টি তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে সনথা বা ডিগ্রির চেয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রকৃত যোগ্যতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশ্বের অবহেলিত ও প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে দেওয়ার এই সম্মিলিত বৈশ্বিক উদ্যোগকে সফল করতে তিনি উপস্থিত সকল বিশ্বনেতার আন্তরিক সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস





