জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অত্যন্ত দূরদর্শী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার বঙ্গভবন থেকে পাঠানো এক বিশেষ অভিনন্দনবার্তায় এই শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই গৌরবময় অর্জন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে ফুটে উঠেছে জাতীয় স্বার্থ ও বৈশ্বিক সংকট
রাষ্ট্রপতি তাঁর অভিনন্দনবার্তায় উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণে বাংলাদেশের মূল জাতীয় স্বার্থ, দেশের সাধারণ মানুষের গভীর আকাঙ্ক্ষা এবং আন্তর্জাতিক নানা গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের সুষ্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সময়োপযোগী ভাষণ বিশ্বদরবারে আমাদের দেশের সম্মান, মর্যাদা ও অবস্থানকে আরও বহুগুণ সমুন্নত করবে। দেশের পুনর্গঠনে সরকারের নেওয়া ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ বা ‘থ্রি আর’ কৌশল আন্তর্জাতিক মহলে দারুণ প্রশংসিত হয়েছে।
গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ফ্যাসিবাদী শাসনের দীর্ঘ অধ্যায় অবসানের পর দেশে গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা এবং একই সঙ্গে মানবাধিকার, সুশাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জোরালো অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট প্রত্যয়ও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। বিশ্বশান্তি রক্ষা, বহুপাক্ষিকতার প্রচার, ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়নের মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ তার অগ্রাধিকার জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ
বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে যে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট দেখা দিয়েছে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে—তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তারও সঠিক চিত্র বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। জাতিসংঘকে একটি সত্যিকারের সমঝোতামূলক বিশ্বসমাজ প্রতিষ্ঠার মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রধানমন্ত্রী উপস্থাপন করেছেন, তাকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে আখ্যায়িত করেছেন রাষ্ট্রপতি।
সংঘাতময় ও অশান্ত এই বিশ্বে কেবল সংলাপ, কূটনীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে তিনি যে জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন, তা বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ। ‘সবার আগে বাংলাদেশ: সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই অনন্য প্রত্যয়ের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন যে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের আপামর জনসাধারণের প্রকৃত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আকুল আকাঙ্ক্ষাই প্রতিফলিত হয়েছে।
একটি জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবময় ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর একই রাজনৈতিক পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে ভাষণ দেওয়াকে একটি জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবময় ও ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন রাষ্ট্রপতি। বার্তাটির শেষাংশে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং তাঁর সার্বিক নিরাপদ ও সফল বিদেশ সফর কামনা করেছেন।
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন





