হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ। (ছবি: সংগ্রহ / RTV News / এডিট: BDUS News 24)
পাসপোর্টে বাবার আসল পরিচয় পরিবর্তন করে অন্য দুই ব্যক্তিকে পিতা হিসেবে দেখিয়ে মালয়েশিয়া পালিয়ে যাওয়ার এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সতর্ক দৃষ্টির কারণে দুই তরুণসহ মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে। মূলত পাসপোর্টে তথ্য গোপনের এই অপচেষ্টা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নজরে আসতেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাসপোর্ট জালিয়াতি
গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ঘটনাটি ঘটে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটে কুয়ালালামপুর যাওয়ার কথা ছিল অভিযুক্তদের। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ওই চারজনেরই রাত আটটায় বোর্ডিংয়ের সময় নির্ধারিত ছিল এবং বিমানটিতে তাদের আসনও ছিল পাশাপাশি ১০ নম্বর সারিতে। কিন্তু দেশ ছাড়ার আগেই ইমিগ্রেশন কাউন্টারে তাদের সকল পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পাসপোর্ট জালিয়াতি
তথ্য জালিয়াতি ও আটকদের পরিচয়
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত চার ব্যক্তির নাম হলো—মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ শাবুর মিয়া, আতিকুর রহমান ও নাজমুল ফকির অপু। এদের মধ্যে হেলাল উদ্দিন ও শাবুর মিয়া বয়সে প্রবীণ এবং আতিকুর রহমান ও নাজমুল ফকির অপু তরুণ। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়েই পাসপোর্ট জালিয়াতি ও তথ্যের গরমিল পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
আতিকুর রহমানের পাসপোর্টে বাবা হিসেবে হেলাল উদ্দিনের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল এবং জরুরি যোগাযোগের জায়গায় ও সম্পর্কের ঘরেও হেলাল উদ্দিনকে পিতা বলে উল্লেখ করা হয়। তাদের দুজনের পাসপোর্টে গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়ার নবগ্রামের একই ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল। একইভাবে নাজমুল ফকির অপুর পাসপোর্টে শাবুর মিয়াকে বাবা হিসেবে দেখানো হয়েছিল এবং তাদের ঠিকানা দেওয়া হয়েছিল ঢাকার কদমতলীর পশ্চিম মোহাম্মদবাগ। পাসপোর্ট জালিয়াতি
বয়সের ফারাক ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ পাসপোর্ট জালিয়াতি
ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইয়ে ধরা পড়ে যে, অভিযুক্ত প্রবীণ ব্যক্তিরা নিজেদের বাবা দাবি করে ওই দুই তরুণকে সঙ্গে নিয়ে দেশত্যাগের চেষ্টা করছিলেন। পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, হেলাল উদ্দিনের জন্ম ১৯৭৭ সালের ১২ মার্চ এবং তরুণ আতিকুরের জন্ম ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারি। অন্যদিকে শাবুর মিয়ার জন্ম ১৯৬২ সালের ১৬ ডিসেম্বর এবং অপুর জন্ম ২০০৭ সালের ১২ মার্চ। বয়সের এই ব্যবধান দেখে কর্মকর্তাদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
যদিও হেলাল উদ্দিন ও শাবুর মিয়ার এর আগেও বিদেশ ভ্রমণের দীর্ঘ রেকর্ড রয়েছে, তবে এই দুই তরুণকে কী উদ্দেশ্যে বা কাদের প্ররোচনায় মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। যে কারণে তাৎক্ষণিকভাবে এটিকে মানব পাচার হিসেবে নিশ্চিত না করা হলেও পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের অপারেশন শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, আটকদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাসপোর্ট জালিয়াতি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংক্ষিপ্ত জীবনী ও রাজনৈতিক পথচলা





