দাপ্তরিক কার্যালয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। (ছবি: সংগ্রহ / Tarique Rahman ফেসবুক পেজ / এডিট: BDUS News 24)
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান। ১৯৬৮ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (বয়স ৫৮ বছর)-এর একমাত্র ছোটোভাই ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। ফ্যাসিবাদের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় নির্বাসিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। ১৯৯৪ সালে তিনি সাবেক নৌবাহিনী প্রধান এবং সাবেক মন্ত্রী, রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর সহধর্মিণী একজন কার্ডিওলজিস্ট। এই দম্পতি এক কন্যা সন্তানের জনক-জননী, যাঁদের একমাত্র কন্যা হলেন ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান।
রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও প্রাথমিক জীবন
তিনি এমন একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন, যে পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের পরিচয় দেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরোত্তম ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, যিনি মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে সম্মুখ সমরে অস্ত্রহাতে লড়াই করেছেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান এবং দেশের জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক।
তারেক রহমানের মা বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের তিনবারের নির্বাচিত জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী। দেশ ও জনগণের জন্য স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব তাঁকে জনগণের কাছে অনুকরণীয় আদর্শে পরিণত করেছে। জিয়া পরিবারের সন্তান হিসেবে তারেক রহমান ছোটবেলা থেকেই রাষ্ট্রীয় আচার ও রাজনৈতিক আবহের সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠেন এবং পরিবারটিই ছিল তাঁর প্রথম রাজনৈতিক পাঠশালা।
রাজনৈতিক পথচলা ও আন্দোলন-সংগ্রাম
শৈশবে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং কৈশোরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে নানা আঘাত ও প্রতিঘাত পার করতে হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশুনার সময় তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হন।
১৯৮৮ সালে পৈতৃক নিবাস বগুড়ার গাবতলী থানা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে নাম লেখান। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে মায়ের সঙ্গে প্রচারণায় সক্রিয় অংশ নেন এবং দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্বে সফলতার পরিচয় দেন। ২০০২ সালে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
কারাবাস, প্রবাস জীবন ও নতুন অধ্যায়
২০০৭ সালের ৭ মার্চ অনিয়মতান্ত্রিক ওয়ান ইলেভেন সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং কারাবন্দি অবস্থায় তাঁকে হত্যার অপচেষ্টাও চালানো হয়। প্রায় ১৮ মাস কারাবাসের পর মুক্তি পেয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান এবং দীর্ঘ সময় প্রবাসে থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দলের নেতৃত্ব দেন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তিনি একই দিন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় প্রবাস জীবন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অবশেষে ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় জনগণের সামনে উন্মুক্ত মঞ্চে দাঁড়িয়ে শপথ গ্রহণ করেন।
জাতিসংঘে ঐতিহাসিক ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন





