এলপিজি ব্যবসায়ীদের দাবিসমূহ আদায়ে ধর্মঘটের কারণে বন্ধ থাকা গ্যাসের দোকান। ছবি সংগৃহীত | সংগ্রহ ও পরিবেশনায়: (BDUS News 24)।
সিলিন্ডারপ্রতি বিক্রি কমিশন বাড়িয়ে ১৫০ টাকা অথবা মোট মূল্যের ৭ শতাংশ নির্ধারণসহ মোট সাত দফা দাবিতে দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এই দাবিসমূহ আদায়ে আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার) সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের সব দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির সিদ্ধান্ত জানান।
এলপিজির দোকান বন্ধ এবং ব্যবসায়ীদের মূল ৭ দাবি
সংবাদ সম্মেলনে সমিতি উল্লেখ করে যে, দুই দিনের নির্ধারিত ধর্মঘটের মধ্যে সমস্যার সন্তোষজনক সমাধান না পাওয়া গেলে পরবর্তীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। সভাপতি মো. সেলিম খান ব্যাখ্যা করেন যে, বিগত পাঁচ বছর পূর্বে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ টাকা কমিশন ধার্য করেছিল। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন খরচ, গুদামভাড়া এবং লেবার চার্জ বেড়ে যাওয়ার কারণে এই ৫০ টাকা কমিশনে ব্যবসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বিইআরসির কাছে যে সাত দফা দাবি পেশ করেছেন, তার মধ্যে প্রধান দাবিগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
- কমিশন পুনর্নির্ধারণ: সিলিন্ডারপ্রতি কমিশন বাড়িয়ে ১৫০ টাকা অথবা বিক্রয়মূল্যের ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা।
- মূল্য সমন্বয় প্রক্রিয়া: কোনো কোম্পানি মাসে একাধিকবার দাম পরিবর্তন করতে চাইলে তা অবশ্যই বিইআরসির মাধ্যমে ঘোষণা করা।
- অলস সিলিন্ডার পুনঃব্যবহার: এলসি বা ঋণপত্র খুলতে না পারা সংস্থাসমূহের অলস সিলিন্ডারে সরকারি বা বিকল্প উপায়ে গ্যাস ভরা।
- প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ: পিকআপ বা ট্রাকে নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত রেলিংয়ের কারণে ট্রাফিক পুলিশের মামলা ও অযৌক্তিক জরিমানা বন্ধ করা।
এলপিজি সরবরাহ সংকট ও বিইআরসির অবস্থান
বর্তমানে বাজারে হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি ছাড়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। এতে সারা দেশে কয়েক লাখ সিলিন্ডার অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একই সাথে চালানে প্রকৃত দাম উল্লেখ না করা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অনৈতিক অভিযানের প্রতিবাদ জানান তারা। তবে সংবাদ সম্মেলন চলাকালে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
উল্লেখযোগ্য যে, সরকার সম্প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১,৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করলেও সাধারণ ক্রেতারা নির্দিষ্ট মূল্যে গ্যাস পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) দাবি করেছে যে দেশে গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং যারা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ঢাকার রাস্তায় ‘মায়া রাইড’: নারী চালকদের মাধ্যমে মিলছে নিরাপদ যাতায়াতের স্বস্তি





