ছবি: Ai
সম্পর্ক ঠিক করার উপায়
কাউকে মনে কষ্ট দিয়ে ফেলার পর অনুতপ্ত হয়ে একটিমাত্র ‘সরি’ শব্দ উচ্চারণ করা খুব সাধারণ বিষয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেবল মুখে দুঃখ প্রকাশ করলেই কি মনের সব অভিমান নিমিষেই দূর হয়ে যায়? কিংবা আগের মতো মধুর হয়ে ওঠে কি ভাঙাগড়া এই সম্পর্কগুলো? বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল মুখে ক্ষমা চাইলেই সম্পর্কের গভীরে তৈরি হওয়া ক্ষত সহজে সারে না। কখনো কখনো কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমেই সেই ভুল শুধরে নেওয়া বেশি জরুরি হয়ে পড়ে।
ব্যাংক খাতের সংকট কাটাতে সুশাসন জোরদার ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন: এবি ব্যাংক চেয়ারম্যান
যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট ক্লিনিক্যাল মনোবিজ্ঞানী মলি হাওয়েস তার আলোচিত বই ‘এ গুড অ্যাপোলজি: ফোর স্টেপস টু মেক থিংস রাইট’-এ আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার কিছু সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ধাপ তুলে ধরেছেন। তার মতে, সম্পর্কের পারস্পরিক দূরত্ব কমিয়ে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে কিছু নিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপ অনুসরণ করা উচিত। সম্পর্ক ঠিক করার উপায়
১. আত্মপক্ষ সমর্থন বাদ দিয়ে আগে অন্যের কথা শুনুন
কারো মনে আঘাত দেওয়ার পরপরই নিজের পক্ষে সাফাই গাওয়ার প্রবণতা অনেকেরই থাকে। আপনি হয়তো বুঝাতে চান যে আপনার উদ্দেশ্য ভালো ছিল কিংবা অন্যপক্ষ বিষয়টি ভুল বুঝেছে। তবে মনোবিজ্ঞানীদের পরামর্শ হলো, যুক্তি দেখানোর আগে অপর পক্ষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। আপনার উদ্দেশ্য যাই থাকুক না কেন, আপনার আচরণে তিনি কষ্ট পেয়েছেন কি না—সেটি উপলব্ধি করাই আসল কথা। মাঝখানে বাধা না দিয়ে তার অনুভূতি শোনার মাধ্যমেই কেবল সমস্যার শেকড় পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব। সম্পর্ক ঠিক করার উপায়
২. ভুলের সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে নিন
‘তুমি কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখিত’—এ ধরনের কথা শুনতে ক্ষমা চাওয়ার মতো মনে হলেও এতে মূল দায় অন্যের অনুভূতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। এর বদলে নিজের আচরণের সরাসরি প্রভাব স্বীকার করে নেওয়া ভালো। অনিচ্ছাকৃত ভুল হলেও তার দায় নিজের কাঁধে নেওয়া এবং আত্মপক্ষ সমর্থন থেকে দূরে থাকাই পরিপক্ক সম্পর্কের লক্ষণ।
৩. ক্ষতিপূরণ ও কাজের মাধ্যমে আন্তরিকতার প্রমাণ দিন
কথায় ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ভুলের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা থাকা চাই। ধরুন, আপনার ভুলে কারও কোনো বিশেষ মুহূর্ত নষ্ট হয়েছে, তবে পুনরায় সুন্দর কোনো উদ্যোগের মাধ্যমে তা পুষিয়ে দেওয়ার মানসিকতা রাখতে হবে। ছোট্ট একটি আন্তরিক উদ্যোগ বা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার চেষ্টা সম্পর্কের বরফ গলাতে দারুণভাবে সাহায্য করে।
৪. আচরণে পরিবর্তন এনে পুনরায় ভুল না করার প্রতিশ্রুতি
‘আর কখনো এমন ভুল হবে না’—এই প্রতিশ্রুতি বারবার দেওয়ার পরও যদি একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে কথার আর কোনো মূল্য থাকে না। তাই সম্পর্ক ঠিক করার উপায় হিসেবে মূল অভ্যাস বা পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নিতে হবে। জাপানের ঐতিহ্যবাহী ‘কিনৎসুকুরোই’ শিল্পের মতো ভাঙা পাত্রের ফাটল যেমন সোনালি রঙে ভরাট করা হয়, তেমনি খোলামেলা আলোচনা ও পারস্পরিক প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ককেও আগের চেয়ে সুন্দর করে তোলা সম্ভব। সম্পর্ক ঠিক করার উপায়
গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ: সংঘর্ষ, আগুন ও উত্তেজনার ছয় ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল শুরু






