সংগৃহীত ছবি
বরিশালে বাস চলাচল বন্ধ
বরিশাল সদর উপজেলার ব্যস্ততম চরকাউয়া বাস টার্মিনাল কেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ ৬টি রুটে থ্রি-হুইলার ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য যানবাহন চলাচল স্থগিত রেখেছেন বাস মালিক ও শ্রমিকরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকেই চরকাউয়া টার্মিনাল থেকে দূরদূরান্তের সব কটি অভ্যন্তরীণ রুটের বাস ছাড়েনি বাস শ্রমিক সংগঠনগুলো।
এর বিপরীতে, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও থ্রি-হুইলার ভাঙচুরের প্রতিবাদ জানিয়ে অটোরিকশা চালকরাও সড়কের লাহার হাট প্রান্তে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং বাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন। উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও ধর্মঘটের কারণে সড়কটিতে সব ধরণের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সপ্তাহের শুরুতেই হঠাৎ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন গন্তব্যের হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা। বরিশালে বাস চলাচল বন্ধ
অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিরোধের মূল পটভূমি
স্থানীয় ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, রোববার (১ নভেম্বর) চরকাউয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় বাস শ্রমিকদের সাথে স্থানীয় থ্রি-হুইলার ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের মধ্যে এক বাকবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়। বাস মালিক ও শ্রমিকদের মূল দাবি হলো— মহাসড়ক ও প্রধান রুটগুলোতে বেপরোয়া গতিতে ফিটনেসবিহীন থ্রি-হুইলার ও অটোরিকশা চলাচলের কারণে প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
চরকাউয়া বাস শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি মাসুম মজুমদার জানান, বাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অটোরিকশাগুলো মূল সড়কে যাত্রী পরিবহন করায় প্রতিনিয়ত সাধারণ যাত্রীরা হতাহত হচ্ছেন এবং বাস মালিকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কোনো বাস দুর্ঘটনার শিকার হলে তা আবার মেরামত করে সড়কে নামাতে মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। তাই মূল সড়ক থেকে থ্রি-হুইলার সরিয়ে ছোট যানবাহনগুলোকে শাখা সড়কে চলাচলের প্রশাসনিক নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তারা বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করবেন না।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও অটোরিকশা চালকদের বক্তব্য
অন্যদিকে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলার শ্রমিকরা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। চরামদ্দি এলাকার ইজিবাইকচালক সুমন সিকদার জানান, ওই অঞ্চলে যাত্রী পরিবহনের জন্য আলাদা কোনো বিকল্প বা সাইড সড়ক নেই। ফলে তাদের বাধ্য হয়েই বাসের পাশাপাশি মূল সড়ক ব্যবহার করতে হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত রবিবার এক মুমূর্ষু রোগীকে নিয়ে খেয়াঘাটের দিকে যাওয়ার সময় বাস শ্রমিকরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং অন্তত ১৫ থেকে ২০টি অটোরিকশা ভাঙচুর করে। চালকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদেই তারাও সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের মতে, বাস মালিক সমিতি অবৈধভাবে তাদের স্বাভাবিক জীবিকায় বাধা সৃষ্টি করছে। বরিশালে বাস চলাচল বন্ধ
যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ ও প্রশাসনের অবস্থান
চরকাউয়া বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ডিসি রোড, লক্ষ্মীপাশা, লাহারহাট, কাটাদিয়া, হলতা এবং সিদ্দিক বাজার রুটে প্রায় ৭০টিরও বেশি বাস আসা-যাওয়া করে। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সোমবার সকাল থেকে এই রুটগুলোর হাজার হাজার নিয়মিত যাত্রী গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। অনেকে বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে মোটরবাইক, রিকশা কিংবা পায়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওয়ানা দেন। আর এই সুযোগে কিছু স্থানীয় চালক যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া অঞ্চলের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও পরিবহন পরিস্থিতি নিয়ে বরিশাল মহানগর পুলিশের বন্দর থানার কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, দুই পক্ষের মধ্যে উদ্ভূত অচলবস্থা নিরসনে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে যৌথ বৈঠকে বসেছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
যাই হোক না কেন, সমাধান না আসা পর্যন্ত বরিশালে বাস চলাচল বন্ধ থাকার কারণে ওই রুটের হাজার হাজার যাত্রীর চরম দুর্ভোগ ও যাতায়াত সংকট এখনো কাটেনি।
ব্যাংক খাতের সংকট কাটাতে সুশাসন জোরদার ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন: এবি ব্যাংক চেয়ারম্যান






