
ঘুমের মধ্যে বিষধর সাপের কামড় খাওয়ার পর আতঙ্কিত না হয়ে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিলেন এক নারী। কামড় দেওয়া বিষধর ‘শঙ্খিনী’ সাপটিকে মেরেই খ্যান্ত হননি, সঠিক চিকিৎসার স্বার্থে সেই সাপটি সাথে নিয়েই সোজা হাসপাতালে হাজির হলেন তিনি। ঝুঁকিপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে তার এমন বিরল বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতা দেখে চমকে গেছেন চিকিৎসক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ পায়ে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন ওই নারী। আলো জ্বেলে তিনি দেখতে পান একটি বিষধর শঙ্খিনী সাপ তাকে ছোবল দিয়েছে। প্রাণভয়ে আতঙ্কিত হয়ে দিকবিদিক না ছুটে তিনি দ্রুত সাপটিকে কাবু করেন।
এরপর সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ করেন তিনি—চিকিৎসকরা যেন সাপের প্রজাতি চিনতে পেরে সঠিক ‘অ্যান্টিভেনম’ বা প্রতিষেধক প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য মরা সাপটি একটি পাত্রে আটকে সাথে করে নিয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ছোটেন।
হাসপাতালে উপস্থিত হলে প্রথমে সাপসহ রোগীকে দেখে উপস্থিত সবার মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তবে চিকিৎসকরা ওই নারীর উপস্থিত বুদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিষধর সাপের প্রজাতি সহজেই শনাক্ত করতে পারায় কালবিলম্ব না করেই তার চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়। বর্তমানে ওই নারী হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
চিকিৎসকরা জানান, সাপের কামড়ের পর অনেকেই ভুল চিকিৎসা বা ওঝার কাছে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করেন। কিন্তু এই নারী যেভাবে আতঙ্ক সামলে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তে হাসপাতালে এসেছেন, তা অনেকের জন্যই একটি দৃষ্টান্ত। তবে বিষধর সাপ ধরার ক্ষেত্রে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন:হরমুজ প্রণালি ও ইরান-যুক্তযুদ্ধ আপডেট: চুক্তির আভাস মিললেও নৌপথ অবরুদ্ধই রাখছে তেহরান






