গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ওষুধ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য। (ছবি: প্রথম আলো / ফটো সম্পাদনা ও ক্যানভা এডিট: BDUS News 24)
গাজীপুরের টঙ্গীর ব্যস্ততম চেরাগ আলী এলাকায় অবস্থিত ‘ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামক একটি ওষুধ উৎপাদন কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনের তীব্রতা ও ব্যাপকতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি দল যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে।
আজ বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে কারখানার ইউনিট-২ থেকে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশের ভবন ও বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট
ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আগুনের তীব্রতা এবং ব্যাপক বিস্তৃতির কারণে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্টেশন থেকে অতিরিক্ত ইউনিট আনা হয়।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার শাহিন আলম জানান, কারখানার ভবনটি মূলত ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং কাঁচ দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসকে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানিয়েছেন, বর্তমানে এই আগুন নিয়ন্ত্রণে টঙ্গী স্টেশনের তিনটি, উত্তরা স্টেশনের তিনটি, গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্নের চারটি, কুর্মিটোলা স্টেশনের চারটি, রাজেন্দ্রপুর স্টেশনের দুটি এবং পূর্বাচল স্টেশনের তিনটিসহ মোট ২০টি ইউনিট সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া পরিস্থিতি সামাল দিতে মিরপুর থেকে একটি বিশেষ হ্যাজম্যাট টেন্ডারও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
রাসায়নিক ঝুঁকি এবং উদ্ধার কার্যক্রমের সর্বশেষ আপডেট
কারখানার ভেতরে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য কেমিক্যাল ও ওষুধ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ মজুত থাকায় অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। আগুনের প্রচণ্ড তাপ এবং কেমিক্যালের তীব্র গন্ধে আশপাশের এলাকায় অস্বস্তিকর ও ভীতিপ্রদ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
দুপুর পর্যন্ত এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সুনির্দিষ্ট কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কারখানার ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।
পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। আগুনের সুনির্দিষ্ট সূত্রপাত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন
বাদাম কিনতে গিয়ে সড়ক পারাপার, পটিয়ায় লেগুনার চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশু নিহত





