বিশ্ববাজারে সরবরাহের উদ্দেশ্যে ডিকসন বন্দর ত্যাগ করা রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাংকার।(ছবি: দৈনিক ইত্তেফাক / ফটো সম্পাদনা ও ক্যানভা এডিট: বিডিইউএস নিউজ ২৪)
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মস্কো। বাণিজ্যিক চুক্তি অনুযায়ী বিশ্ববাজারে সরবরাহের উদ্দেশ্যে রাশিয়ার প্রথম তেলবাহী ট্যাংকার ইতোমধ্যে নির্ধারিত বন্দর ত্যাগ করেছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক। একই সাথে আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিতে পারে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রচারিত রাজনৈতিক টক শো ‘সলোভিওভ লাইভ’-এ বক্তব্য প্রদানকালে উপপ্রধানমন্ত্রী নোভাক বিশ্ব জ্বালানি বাজারে রাশিয়ার অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, রুশ জ্বালানি রফতানিতে কোনো ধরনের জটিলতা নেই এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের কাছে জ্বালানি ক্রয়ে আগ্রহী অনেক অংশীদার রয়েছে।
ডিকসন বন্দর ত্যাগ ও ট্রাম্প-পুতিন আলোচনার ভূমিকা
উপপ্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রাসনোইয়ারস্ক অঞ্চলের অধীনস্থ কারা সাগরের উপকূলে অবস্থিত ডিকসন বন্দর থেকে প্রথম ট্যাংকারটিতে তেল বোঝাই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রক্রিয়াটি শেষ হওয়ার পরপরই বিশ্ববাজারে সরবরাহের উদ্দেশ্যে রাশিয়ার প্রথম তেলবাহী ট্যাংকার নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।
রাজনৈতিক পটভূমি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৯ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের টেলিফোন সংলাপে ডিজেল সরবরাহসংক্রান্ত একটি সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ওই ফোনালাপের পর যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল পাঠাতে রাজি হয় মস্কো। পুতিনের মতে, বিশ্ববাজারে এই সরবরাহ স্থিতিশীলতা আনবে; যদিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে দাবি করেছেন, এতে মস্কোর যুদ্ধের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্ববাজারে তেলের ঘাটতি ও নর্ড স্ট্রিমের ভবিষ্যৎ নিয়ে সর্বশেষ আপডেট
জ্বালানি বাজারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে নোভাক উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ থেকে ৬০ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এই বড় অঙ্কের ঘাটতির ফলেই বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। নোভাক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, হরমুজ প্রণালির গতিপথ স্বাভাবিক না হলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
এদিকে এশীয় বাজারে রফতানি প্রসারের অংশ হিসেবে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া’ পাইপলাইনের সাহায্যে চীনে বছরে ৩ হাজার ৯০০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যের কথা জানান নোভাক। চুক্তির ভিত্তিতে এই রফতানি ক্ষমতা বছরে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ঘনমিটারে উন্নীত করা সম্ভব।
অন্যদিকে ইউরোপের নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনের ক্ষতিগ্রস্ত ৩টি লাইন বাদে অক্ষত থাকা একটি লাইনের মাধ্যমে এখনো প্রযুক্তিগতভাবে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি। তবে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ পুনঃসূচনা সম্পূর্ণভাবে ক্রেতা দেশগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানান নোভাক।
এআই ভিডিও ছড়ানোর ঘটনায় মাছরাঙা টিভির প্রতি ক্ষোভ পরীমণির: মানসিক শান্তি নষ্টের অভিযোগ





