ছবি সংগ্রহ: সমকাল / সংগৃহীত | ক্যানভা এডিট ও গ্রাফিকস: BDUS News 24
শিল্পা রাও
মুম্বইয়ে আয়োজিত জমকালো বলিউড মিউজিক প্রজেক্টের (বিএমপি) দশম বর্ষপূর্তির সংগীতানুষ্ঠানে এক নজিরবিহীন ও অনভিপ্রেত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী জনপ্রিয় গায়িকা শিল্পা রাওয়ের পরিবেশনা চলাকালীন হঠাৎ করেই তাঁর মাইক্রোফোন ও সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়া হয়। পূর্বঘোষণা ছাড়া ও কোনো আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানোর সুযোগ না দিয়েই তাঁকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দর্শক ও সংগীতপ্রেমীরা।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বইয়ের ওই ইভেন্টে গান গাওয়ার সময় শুরু থেকেই টেকনিক্যাল নানা ত্রুটির মুখে পড়েন শিল্পা রাও। প্রথমে তাঁর মাইক্রোফোন কাজ না করায় কিছুটা সময় অপচয় হয়। পরবর্তীতে নতুন মাইক্রোফোন দিয়ে গান চালিয়ে গেলেও তাঁর জনপ্রিয় ‘চুট্টামল্লে’ গানটি পরিবেশনের সময় হঠাৎ করেই মাইক্রোফোন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা গায়িকাকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।
পরিবেশনা অসমাপ্ত রেখেই মাইক্রোফোন বন্ধ করার পেছনের বিতর্ক
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন শিল্পা মঞ্চে উপস্থিত থাকা অবস্থাতেই অন্য একটি ব্যান্ডের পরিবেশনা শুরু করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও অপেক্ষার জন্য ধন্যবাদ জানাতে গেলে শিল্পার মাইক্রোফোন আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে দর্শকদের সামনে নিজের পরিবেশনা সুন্দরভাবে শেষ করার বা আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার ন্যূনতম সুযোগটুকুও পাননি তিনি। এই আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে গায়িকা বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য শিল্পীরাও তাঁর পাশে দাঁড়ান।
এই ঘটনায় সোচ্চার হয়েছে অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (AICWA)-ও। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একজন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীর সঙ্গে এ ধরনের অসম্মানজনক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা তীব্র নিন্দার যোগ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, শিল্পা যখন মঞ্চে ছিলেন, তখন অনুরাগীরা ক্রমাগত তাঁর নাম ধরে স্লোগান দিচ্ছিল।
আয়োজকদের সাফাই, হিমেশ রেশমিয়ার পারফরম্যান্স ও ক্ষমা প্রার্থনা
ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে বলিউড মিউজিক প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে গায়িকা শিল্পা রাও, তাঁর কলাকুশলী এবং উপস্থিত দর্শকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে আয়োজক সংস্থা। আয়োজকদের দাবি, স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা এবং অনুষ্ঠানস্থলের নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলার বাধ্যবাধকতার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, পূর্বের পরিবেশনাগুলোতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় পুরো অনুষ্ঠানসূচিতে বিঘ্ন ঘটে।
বিশেষ করে হিমেশ রেশমিয়ার দীর্ঘায়িত পারফরম্যান্সের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাত ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা পর্যন্ত তাঁর মঞ্চে থাকার কথা থাকলেও, দেরিতে শুরু করায় তিনি রাত ১০টার পরেও গান চালিয়ে যান। তিনি তাঁর জনপ্রিয় ‘নাম হ্যায় তেরা’ ও ‘আশিক বানায়া আপনে’-র মতো গান গেয়ে মঞ্চ মাতিয়ে রাখেন এবং শেষ পর্যন্ত রাত ১০টা ১৩ মিনিটে তাঁর মাইক্রোফোন বন্ধ করা হয়। যদিও এই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল বলে দাবি করেছে আয়োজক কমিটি, তবুও গুণী শিল্পী শিল্পা রাওয়ের পুরো পরিবেশনা দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে না পারার জন্য তারা গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। শিল্পা রাও
এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা-ফেনীসহ যেসব স্টেশন থেকে ওঠা যাবে কক্সবাজারগামী ট্রেনে





