সয়াবিন তেল ফাইল ছবি
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণ দেখিয়ে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর যে প্রস্তাব মিল মালিকরা দিয়েছিলেন, তা আপাতত সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। মূলত সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে এবং রমজানের আগে বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধে সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের কাছে দাম বাড়ানোর এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। প্রস্তাবিত মূল্য অনুযায়ী, বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম বর্তমানের ২০৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১৮ টাকা, ৫ লিটারের বোতল ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছিল। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বাজার পর্যালোচনা সভায় এই প্রস্তাবের সাথে একমত পোষণ করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক বাজার বনাম উৎপাদন খরচের হিসাব সয়াবিন তেলের দাম
মিল মালিকদের সংগঠনের পাঠানো চিঠিতে দাবি করা হয়েছে যে গত ছয় মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি মেট্রিক টন ভোজ্যতেলের আন্তর্জাতিক বুকিং দর ১ হাজার ৩২৫ ডলারে উন্নীত হয়েছে। এই দরের ভিত্তিতে হিসাব করলে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ২৩৩ টাকা পড়ে যায় বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। এর সাথে স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ এবং পরিবহন খাতের বাড়তি খরচ যুক্ত হওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানানো হয়।
তবে ব্যবসায়ীদের এই দাবির বিপরীতে দেশের আমদানির চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে দেশে ভোজ্যতেল ও সয়াবিন বীজ আমদানির পরিমাণ এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলার হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপরেও আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে যাতে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।
খেজুরের শুল্ক কাঠামো ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি
ভোজ্যতেলের পাশাপাশি আসন্ন রমজানের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ খেজুরের বাজার সহনীয় রাখতে বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, বর্তমান উচ্চ শুল্ক হারের কারণে খেজুর আমদানির খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে বিকল্প সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের ফলে পরিবহন ব্যয়ও আকাশচুম্বী।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সাধারণ ও প্রিমিয়াম মানের খেজুরের মধ্যকার পার্থক্য বিবেচনা করে একটি যৌক্তিক ও আধুনিক শুল্ক কাঠামো নির্ধারণের ওপর জোরালো তাগিদ দিয়েছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাথে দ্রুত আলোচনা করে এই সমস্যা নিরসন করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালার কারণে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং সাধারণ ক্রেতারা স্বস্তিতে থাকতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ফের অপূর্ব-নীহার রসায়নে মুগ্ধ দর্শক, কোটির ঘরে ‘ভালো আছো তো’





