
ঢাকা ডেস্ক: সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে কে বসছেন—তা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা এখন তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০শে আগস্ট নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বর্তমান জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীই যে পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হচ্ছেন, তা প্রায় নিশ্চিত। এই পরিস্থিতিতে বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে কার নাম আসছে, তা নিয়ে জল্পনার কেন্দ্রে রয়েছেন দলটির মহাসচিব ও বর্তমান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় সূত্রগুলোর মতে, বিগত দেড় দশক ধরে দলের কঠিন সময়ে রাজপথের আন্দোলন এবং দল গোছানোর ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অবদান অনস্বীকার্য। দলের জন্য তার এই ত্যাগ ও সর্বজনগ্রাহ্য ভাবমূর্তির কারণে বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা হিসেবে তার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারেক রহমানের ওপর
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলামের নাম নিয়ে জোর আলোচনা থাকলেও দলটির পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করা হয়নি। গত ১ই আগস্ট রাতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়নের সার্বিক দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর গ্রিন সিগন্যালের ওপরই নির্ভর করছে।
আলোচনায় আছেন আরও প্রবীণ নেতা
দলীয় নীতিনির্ধারকদের একাংশের মতে, মির্জা ফখরুল বর্তমানে সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন এবং দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তার সক্রিয় উপস্থিতি প্রয়োজন। তাকে এই মুহূর্তে বঙ্গভবনে পাঠানো হলে দল ও সরকার পরিচালনায় শূন্যতা তৈরি হতে পারে। এই সমীকরণে মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির আরও কয়েকজন প্রবীণ ও জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে:
- ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার (সাবেক স্পিকার ও স্থায়ী কমিটির সদস্য)
- ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (স্থায়ী কমিটির সদস্য)
- নজরুল ইসলাম খান (স্থায়ী কমিটির সদস্য)
- বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও সংসদ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ
২০শে আগস্ট নির্বাচন, একক প্রার্থী হলে ভোটের প্রয়োজন নেই
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ই আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ১৬ই আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দল এই নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায়, ১৩ই আগস্ট যদি বিএনপি একক প্রার্থী হিসেবে কারও নাম জমা দেয় এবং তা বৈধ ঘোষিত হয়, তবে ২০শে আগস্ট আর আনুষ্ঠানিক ভোটের প্রয়োজন পড়বে না; কমিশন তাকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে।

শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা হচ্ছেন, নাকি চমক হিসেবে অন্য কোনো প্রবীণ রাজনীতিকের মাথায় উঠছে ২০২৩ সালের পর শূন্য হওয়া এই সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের মুকুট—তা জানতে আগামী ১৩ই আগস্ট মনোনয়নপত্র জমার দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে দেশবাসীকে।






