
বিডিইউএস নিউজ ২৪ ডেক্স: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ অবশেষে দেশে এসে পৌঁছেছে। ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাতে মরদেহগুলো অ্যাম্বুলেন্সযোগে প্রবাসীদের নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছালে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিডিইউএস নিউজ ২৪ (BDUS News 24) এর অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট রিয়াদের মানফুয়া ও শিফা থানাধীন মুসা সানায়িয়া শিল্প এলাকার একটি সোফা তৈরি কারখানায় মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। কারখানার মূল ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকায় আগুন লাগার পর শ্রমিকেরা বের হতে পারেননি। ফলে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই ১৬ জন বাংলাদেশি প্রবাসীর সকরুণ মৃত্যু হয়।
দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে প্রাথমিক পর্যায়ে ৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ৯ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ দেশে আনা হয়। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লাশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মধ্যে সাতজনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। তারা হলেন— উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তার ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার। এছাড়া অন্য দুজনের মধ্যে একজনের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামে (রবিউল ইসলাম) এবং অপরজনের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রামের (শ্যামল উদ্দিন)।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে এসব প্রবাসীর স্বজনরা এখন দিশেহারা। নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় একই সঙ্গে কয়েকজন তরুণের মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর এক কান্নার রোল পড়ে যায়। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে এবং দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে প্রবাসে পাড়ি জমানো এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
এদিকে বিমান বিমানবন্দরে নিহতদের স্মরণে ও তাদের স্বজনদের প্রতি সহানুভূতি জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সচিব মো. মোখতার আহমেদ এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের ডেপুটি চিফ অব মিশন ইব্রাহীম আলাহমারিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গ। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া বাকি ৭ জন বাংলাদেশির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া বাকি। যেহেতু শরীর পুড়ে যাওয়ার কারণে আঙুলের ছাপ মেলানো সম্ভব হয়নি, তাই সৌদি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ডিএনএ (DNA) টেস্টের কার্যক্রম চলছে। পরীক্ষার ফলাফল আসার পরপরই বাকি মরদেহগুলোও দ্রুততম সময়ে দেশে এনে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।






