
চলমান জীবনের পথচলা
চলমান জীবনের পথচলায় মানুষ কত কিছুই না নিজের করে পেতে চায়। কিন্তু সময়ের স্রোতে সবই যেন বালুচরের ঘরের মতো চোখের নিমিষে ধুয়েমুছে যায়। পেছনের দিকে তাকালে কেবল শূন্যতা আর দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আর কিছুই হাতে থাকে না। এই জীবনে অনেক মূল্যবান মানুষ, অধরা স্বপ্ন আর না বলা বহু আশা হারিয়ে গেছে। কিন্তু যা কখনো হারায়নি বা ফুরিয়ে যায়নি, তা হলো বুকভরা কষ্ট আর দীর্ঘশ্বাসের গল্পগুলো।
ছোটবেলায় সুখের সংজ্ঞাটা ছিল খুবই সহজ—পছন্দের কোনো জিনিস পাওয়া কিংবা একটুখানি মিষ্টি হাসি। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে জীবন তার কঠিন রূপ দেখাতে শুরু করল। সুখ যেন এক চঞ্চল পবনের মতো, যা দূর থেকে ছুঁয়ে যায় ঠিকই, কিন্তু স্থায়ীভাবে কখনো ধরা দেয় না। পরম যত্নে যাকে নিজের সুখের ঠিকানা বানাতে চেয়েছিলো মন, সেও একদিন পথের বাঁকে অচেনা হয়ে গেছে। শান্তি নামক শব্দটা কেবল রূপকথার গল্পের মতো অধরা এক মায়ার জাল হয়ে রয়ে গেছে জীবনে।
এর বিপরীতে, দুঃখের সাথে যেন এক অদ্ভুত স্থায়ী চুক্তি হয়ে গেছে। সুখ আসুক বা না আসুক, দুঃখ কখনো ঠিকান ভুলে দূরে সরে যায় না। শীতের চাদরের মতো সে সবসময় জড়িয়ে থাকে মনের খুব গভীরে। নিঃসঙ্গ রাতের নীরবতায়, এক কাপ চায়ে কিংবা ব্যস্ত শহরের কোলাহলে হঠাৎ করেই পুরোনো স্মৃতিগুলো হুড়মুড় করে এসে মনে জমা হয়। তখন চোখের কোণে জমে থাকা জল আর না বলা কষ্টগুলোই একমাত্র বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়ে পাশে থাকে।
তবে কি জীবন মানেই কেবল বুকফাটা কান্না আর হাহাকার? হয়তো না। জীবন হলো এই দুঃখ আর কষ্টগুলোকে সাথে নিয়েও টিকে থাকার নাম। ভাঙা মন নিয়ে প্রতিদিন সকালে নতুন করে বাঁচার লড়াই শুরু করাটাই হলো আসল বাস্তবতা। কষ্টের পসরা সাজিয়ে বসে থাকা এই মানুষগুলোই হয়তো ভালোবাসতে জানে সবচেয়ে বেশি, নিখাদ হৃদয়ে অন্যের ব্যথা অনুভব করতে পারে।
পরিশেষে বলব, জীবন নদীর স্রোত কারোর জন্য থেমে থাকে না। সুখ হয়তো আজীবন অধরাই থেকে যাবে, আর দুঃখ হয়তো ছায়ার মতো পথ চলবে। তবুও এই না-পাওয়ার বেদনা আর কষ্টগুলোকে বুকে ধারণ করেই জীবনের বাকি পথটুকু পাড়ি দিতে হয়। কারণ এই বেদনাগুলোই প্রমাণ করে যে, বুকভরা অনুভূতি নিয়ে এখনো জীবন্ত একটি মন বেঁচে আছে এই পৃথিবীতে।







