সখিপুর থানা ও ঘটনার প্রতীকী ছবি। (সোর্স: অনলাইন / এডিট: BDUS News 24)
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে পড়ে ১৪ বছরের এক কিশোরী ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত যুবকের নাম রাজু গাজী (২১), যিনি সখিপুর থানার চারভাগা শনি কান্দি গ্রামের সুলতান গাজীর ছেলে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে টিকটকের মাধ্যমেই নড়িয়া উপজেলার পূর্ব দিনারা গ্রামের ওই কিশোরীর সঙ্গে রাজু গাজীর প্রথম পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ইমু অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত কথোপকথন ও যোগাযোগ বাড়তে থাকে। যোগাযোগের একপর্যায়ে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় এবং সেই সম্পর্কের ওপর ভরসা করেই গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ওই কিশোরী রাজুর সঙ্গে দেখা করতে ডিঙ্গামানিক গোলারমাঠ এলাকায় হাজির হয়।
শরীয়তপুরে টিকটকীয় প্রেমের সম্পর্কের জেরে কিশোরী ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল
নির্ধারিত স্থানে দেখা করার পর অভিযুক্ত রাজু গাজী কৌশলে এবং জোরপূর্বক ওই কিশোরীকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে সখিপুরের নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে একটি ঘরে তাকে জোর করে একদিন আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এর পরের দিন রাজু তাকে নানা ধরনের বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রাজধানীতে নিয়ে যান এবং সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে পুনরায় একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
ভুক্তভোগী কিশোরী বারবার বিয়ের জন্য কাবিননামা তৈরি করতে চাপ সৃষ্টি করলে অভিযুক্ত তাকে পুনরায় এলাকায় ফিরিয়ে এনে বাড়ির পাশের একটি সড়কে একা ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর পরিবার স্থানীয় মাতব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হন। কিন্তু সেখান থেকে কোনো ধরনের সুরাহা বা বিচার না পাওয়ায় তারা সরাসরি রাজুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যেখানে রাজু বিয়ে করতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান।
এসব ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে বা আইনি পদক্ষেপ নিলে ভুক্তভোগীকে হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে অসহায় পরিবারটি। পরবর্তীতে তারা স্থানীয় সখিপুর থানায় আইনি সহায়তা চাইতে গেলে পুলিশ তাদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দেয়। সেই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই গত ২২ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাজু গাজীর বাড়িতে সংবাদকর্মীরা তথ্য সংগ্রহে গেলে তার পরিবারের সদস্যরা কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান এবং উল্টো সাংবাদিকদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন।
সর্বশেষ আপডেট তথ্যে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন জানান, আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও নির্দেশনা মোতাবেক অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। পাশাপাশি এই ঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। শরীয়তপুরে টিকটকীয় প্রেমের সম্পর্কের জেরে কিশোরী ধর্ষণ
বিয়ের জন্য ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে কড়া নিরাপত্তায় কারাগারে ফিরলেন গ্যাংস্টার বর





