রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।(ছবি: দৈনিক ইত্তেফাক / ফটো সম্পাদনা ও ক্যানভা এডিট: বিডিইউএস নিউজ ২৪)
রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ঐতিহাসিক জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের শুভ উদ্বোধন এবং উদ্যানের আধুনিকায়ন কাজের সূচনা অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাথমিক উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সরকার গঠনের সূচনা পর্বে ফজরের পর এখন আর ঝাড়ু দিতে দেখা যায় না। পরিচ্ছন্নতার এই ধারাবাহিকতা বজায় না থাকা নিয়ে তিনি নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ওসমানী উদ্যানে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাজনীতিতে গঠনমূলক বিরোধিতার আহ্বান ও শহীদের অবদান
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মিরপুরে ফজরের নামাজ শেষে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন এবং নিয়মিত এই ধারা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ওই প্রসঙ্গ টেনে ফজরের পর এখন আর ঝাড়ু দিতে দেখা যায় না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে বলেন, কেবল বিরোধিতা করার খাতিরে বিরোধিতা না করে সর্বদা গঠনমূলক সমালোচনা করা উচিত।
তারেক রহমান স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, রাজপথে অহেতুক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা জনগণের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি না করে সংসদের ভেতরেই সংবিধান ও দেশীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ফয়সালা হওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্বপ্ন ছিল অভিন্ন—একটি বৈষম্যহীন, পরিচ্ছন্ন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
হাসপাতাল-কোয়ার্টারে আকস্মিক পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা ও নাগরিক সচেতনতা
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক আকস্মিক পরিদর্শনের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন। গত শনিবার দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি আবাসন এলাকা পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ তুলনামূলক সন্তোষজনক হলেও হাসপাতাল ও সরকারি কোয়ার্টারগুলোর অবস্থা সবচেয়ে নাজুক।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নিজেরা পরিবেশের ব্যাপারে সচেতন না হলে সাধারণ নাগরিকরা কী শিখবে? এ সময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আমন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের অংশ না নেওয়াটা অনাকাঙ্ক্ষিত। দেশের স্বার্থে সবাইকে একত্র হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ফজরের পর এখন আর ঝাড়ু দিতে দেখা যায় না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও পরিবেশগত সচেতনতার বার্তা উঠে এসেছে।
সচিবালয় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে শেরেবাংলা নগরে: মন্ত্রিসভায় অনুমোদন





