প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক।(ছবি: প্রথম আলো / ফটো সম্পাদনা ও ক্যানভা এডিট: বিডিইউএস নিউজ ২৪)
রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী আবদুল গণি রোড থেকে বাংলাদেশ সচিবালয় সরিয়ে নেওয়ার দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক আলোচনা এবার বাস্তবায়নের রূপ নিচ্ছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি এড়াতে সচিবালয় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে শেরেবাংলা নগরে (পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ)। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ঐতিহাসিক এই স্থানান্তরের প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।
বৈঠক শেষে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে শেরেবাংলা নগরে তৈরি হতে যাওয়া আধুনিক কমপ্লেক্সে সচিবালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।
বর্তমান কাঠামোর ঝুঁকি ও সচিবালয় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে শেরেবাংলা নগরে
বর্তমানে আবদুল গণি রোডে অবস্থিত বাংলাদেশ সচিবালয়ের মোট আয়তন প্রায় ১৭ দশমিক ৫৭ একর, যেখানে মোট ১৩টি বিভিন্ন ভবন রয়েছে। তথ্যমতে, এর মধ্যে ৮টি ভবনই দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে নির্মিত হয়েছিল। বিশেষ করে ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবনগুলো ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে এবং ৫ নম্বর ভবনটি ১৯৪৭ সালে তৈরি করা হয়। পুরোনো আমলের এসব ভবন ভূমিকম্প সহনশীল করে নির্মিত না হওয়ায় ঢাকার মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দেশের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র পরিচালনা করা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল।
এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের জায়গায় স্থানসংকুলান না হওয়া, ওয়াশ-ব্লকের অভাবসহ স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে নানাবিধ সংকট দেখা দিচ্ছিল। বর্তমানে সচিবালয়ে ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট অফিশিয়াল জায়গা থাকলেও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে আরও প্রায় ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি স্পেস প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।
শেরেবাংলা নগরের নতুন নকশা ও সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা
সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতি লুই আই কানের তৈরি মাস্টারপ্ল্যানকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন প্রকল্পের ধারণাগত নকশা তৈরি করেছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। নতুন প্রস্তাবে শেরেবাংলা নগরের প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর সুবিশাল জমিতে তিনটি বেজমেন্টসহ ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এতে মোট ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট কাজের পরিবেশ তৈরি হবে।
নতুন ভবনে থাকবে ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের বিশাল ব্যবস্থা, যার মধ্যে ২০০টি রাখা হবে ভূ-উপরিস্থ স্থানে। সাধারণ ও দাপ্তরিক সুবিধার জন্য বহুতল কমপ্লেক্সে মসজিদ, ৩৫০ আসনবিশিষ্ট দুটি মাল্টিপারপাস হল, আধুনিক ক্যাফেটেরিয়া ও পোস্ট অফিস স্থাপন করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পুরো প্রকল্পের প্রায় ৩০ শতাংশ স্থান সবুজায়ন ও দৃষ্টিনন্দন জলাধারের জন্য উন্মুক্ত রাখার মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের আদলে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র চলছে: ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী





