পিরোজপুরের নেছারাবাদে শীতলা মন্দিরের ৪২ শতক জমি দখল করে ধান চাষের অভিযোগ এবং অভিযুক্ত স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. শফিকুল ইসলাম হাওলাদার।(গ্রাফিক এডিট ও ছবি সংযোজন: BDUS News 24)
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো একটি সনাতন ধর্মীয় মন্দিরের ৪২ শতক জমি জবরদস্তি করে দখলে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে এই জমি দখল করে বর্তমানে ধান চাষ করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী। জমি নিয়ে আদালতে আইনি লড়াই বা মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও এমন কার্যক্রমে ওই এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। মন্দিরের জমি দখল
ঘটনাটি ঘটেছে নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঐতিহাসিক ওই স্থানটি দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শীতলা মন্দির হিসেবে পরিচিত এবং এর নামে মোট ৪২ শতক জমি রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। যার দাগ নম্বর ৯৫২ এবং খতিয়ান নম্বর ১৩০। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের স্মৃতি ও তথ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েক দশক ধরে এই জমিতে নিয়মিতভাবে শীতলা পূজাসহ নানা ধর্মীয় উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়ে আসছে। সর্বশেষ হালনাগাদ বিএস রেকর্ডেও জমিটি আটজন শরিকের নামে সঠিকভাবে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে বলে দাবি করেছেন জমিদাতা পরিবারের শরিকরা। মন্দিরের জমি দখল
আদালত অবমাননা ও জমি দখলের নেপথ্য কাহিনী মন্দিরের জমি দখল
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মন্দিরের জমির মোট আটজন শরিকের মধ্যে একজনের অংশ নিয়ে একটি অনিবন্ধিত বায়না চুক্তি তৈরি করা হয়। ওই নির্দিষ্ট শরিক বর্তমানে দেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থান করছেন। এই সুযোগে সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম হাওলাদার ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর জোরপূর্বক জমিটি নিজের দখলে নেন। এরপরেই তিনি সেখানে ধান চাষাবাদ শুরু করেন, যার ফলে মন্দিরের স্বাভাবিক পরিবেশ ও ধর্মীয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
জমির মূল মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও ননী লাল বিশ্বাসের ছেলে মনোজ বিশ্বাস গণমাধ্যমকে জানান, হালনাগাদ বিএস রেকর্ড অনুযায়ী জমিটি আটজন শরিকের যৌথ মালিকানাধীন। অথচ অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম একটি অনিবন্ধিত বায়নাপত্রের অজুহাত দেখিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছেন। আদালতের বিচারাধীন বিষয়কে তোয়াক্কা না করে তিনি বলপ্রয়োগ করে জমিতে চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের পূর্বপুরুষেরা যুগ যুগ ধরে ওই পবিত্র স্থানে শীতলা পূজা করে আসছেন উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে জমিটি উদ্ধার এবং পূর্বের মতো পূজা চালুর জোর দাবি জানান। মন্দিরের জমি দখল
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংগঠনের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন আইচ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই ওই নির্দিষ্ট জমিতে নিয়মিত শীতলা পূজা অনুষ্ঠিত হতে দেখে আসছেন। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর থেকে স্থানীয় জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে জমি দখলের এই ন্যাক্কারজনক অভিযোগ ওঠে। বৈধ কাগজপত্র ও দলিলপত্র নিয়ে সামাজিকভাবে বসে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও অভিযুক্ত শফিকুল তা বরাবরই এড়িয়ে যাচ্ছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের পবিত্র ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তি নিয়ে এমন জটিল পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। মন্দিরের জমি দখল
এদিকে এই বিষয়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মো. শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি গণমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে সমুদয়কাঠী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. আবু হানিফ জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম হাওলাদার দলের ১ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঠিকই, তবে এই জমি-সংক্রান্ত বিরোধ সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কেউ নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে জমি দখল করলে দল তার কোনো দায় নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীতিগতভাবে কখনো কোনো ধরনের অন্যায় বা জবরদখলকে প্রশ্রয় দেয় না।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের পিরোজপুর জেলা শাখার সদস্যসচিব প্রলয় মন্ডলসহ একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সমুদয়কাঠীতে জমি দখল, ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙচুর ও সংখ্যালঘুদের আতঙ্কিত করার অভিযোগ পাওয়ার পর তারা সরেজমিনে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম সেই উদ্যোগে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেননি। সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই বিরোধের ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তি এবং মন্দিরের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। মন্দিরের জমি দখল
পিরোজপুরে সাঈদীর মামলার সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ ১৫ ঘণ্টা পর পুলিশ পাহারায় দাফন





