(ছবি সংগ্রহ: প্রবাসীর দিগন্ত / সংগৃহীত | ক্যানভা এডিট ও গ্রাফিকস: BDUS News 24)
পিরোজপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা পর নিশ্ছিদ্র পুলিশি নিরাপত্তায় দাফন করা হয়েছে। নানা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা, স্থানীয় ক্ষোভ এবং চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে সময় গড়ালেও শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
পরিবার সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিরাপত্তা ও পারিপার্শ্বিক কারণে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর মেয়ের জামাইয়ের বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী
দাফন নিয়ে জটিলতা ও পুলিশের হস্তক্ষেপে গার্ড অব অনার
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রাষ্ট্রপক্ষের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হওয়ায় তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবার বিকেলে তাঁর মরদেহ গোপালগঞ্জ থেকে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হলে সেখানে উপস্থিত স্থানীয় কিছু ক্ষুব্ধ নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়ে মৃতের পরিবার। ফলে জনরোষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির আশঙ্কায় তাৎক্ষণিকভাবে পিরোজপুর জেলা পুলিশ প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে এবং মরদেহ সুরক্ষার জন্য পিরোজপুর পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
এআই ভিডিও ছড়ানোর ঘটনায় মাছরাঙা টিভির প্রতি ক্ষোভ পরীমণির: মানসিক শান্তি নষ্টের অভিযোগ
পুলিশ লাইন্স প্রাঙ্গণেই বিকেলে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। তবে দাফনের স্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত দীর্ঘ সময় মরদেহ পুলিশের পাহারায় সংরক্ষিত রাখতে হয়েছিল, যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় নিঝুম রাতে দাফন সম্পন্ন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী
পরবর্তীতে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও পরিবারের সম্মতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে শনিবার গভীর রাতে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত হয়ে মরদেহ তাঁর নিজ গ্রাম চিতলিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে শুধুমাত্র পরিবারের নিকটাত্মীয় ও সীমিত সংখ্যক ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে রাত আনুমানিক ২টার দিকে পুলিশি পাহারায় মানিক পশারীর দাফন কাজ শেষ করা হয়।
আবারও বিয়ে করে ফেললেন অভিনেত্রী চমক? আরিফিন শুভর সঙ্গে ছবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য
ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা এড়াতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই পুলিশের এই বিশেষ পদক্ষেপ ছিল। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরও নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে এবং বিশৃঙ্খলা রোধ করতে নিহতের গ্রামের বাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী
খাদ্য বিক্রেতাদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক: জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা





