
সোশ্যাল মিডিয়ার গ্ল্যামার দুনিয়া ও রাতারাতি তারকা বনে যাওয়ার মোহে জড়িয়ে পড়ছে একশ্রেণির মানুষ। এবার সাইবার জগত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অভিনব কায়দায় পর্নোগ্রাফি ভিডিও তৈরির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামের পরিচিত মুখ ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সুমাইয়াকে নিজ গৃহ থেকে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও তা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর এই পুরো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার নিজের বাবা এবং প্রেমিক প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছিলেন বলে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত সুমাইয়া দীর্ঘদিন ধরে ইনস্টাগ্রামে বিভিন্ন আকর্ষণীয় রিলস ও ছবি পোস্ট করে বেশ ভালোই অনুসারী বা ফলোয়ার্স অর্জন করেছিলেন। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি একজন উদীয়মান সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে এর আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সাথে তিনি যুক্ত হন। কন্টেন্ট তৈরি ও দ্রুত অর্থ উপার্জনের নেশায় তিনি অন্ধকার জগতের দিকে পা বাড়ান। সুমাইয়ার তৈরি করা এসব কমার্শিয়াল ও অশ্লীল কন্টেন্ট বিভিন্ন পেইড প্ল্যাটফর্ম এবং গোপন চ্যাট গ্রুপে চড়া মূল্যে বিক্রি করা হতো।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ও ন্যাক্কারজনক বিষয় হলো, যে বাবা সন্তানের ছাতা হয়ে জীবন চলার পথ দেখানোর কথা, সেই বাবাই মেয়ের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রধান সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, কন্টেন্ট শ্যুট করার জন্য ঘরের ভেতরে স্টুডিওর মতো পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া থেকে শুরু করে পুরো প্রোডাকশন এবং নিরাপত্তার কাজটি করতেন সুমাইয়ার বাবা ও তার প্রেমিক। প্রেমিকের প্ররোচনা এবং বাবার অন্ধ সমর্থনের কারণে সুমাইয়া আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। দিনের পর দিন তারা এই চক্রের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে আসছিলেন বলে গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ইনস্টাগ্রাম ক্রিয়েটর সুমাইয়ার পর্নোগ্রাফি তৈরি ও গ্রেপ্তারের চাঞ্চল্যকর তথ্য
ঘটনাটি জানাজানি হয় যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার ক্রাইম ইউনিট অনলাইনে নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে এই চক্রের সন্ধান পায়। সুনির্দিষ্ট তথ্য ও ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ সুমাইয়ার বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় অপরাধে ব্যবহৃত বেশ কিছু দামি ক্যামেরা, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং পর্নোগ্রাফি তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় হাতেনাতে আটক করা হয় সুমাইয়া এবং তার সাথে জড়িতদের।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চক্রের সাথে আরও অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। সমাজে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তার রোধে এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এই ঘটনার পর থেকে সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার এই অবাধ স্বাধীনতা ও অপব্যবহারের ফলে নৈতিক অবক্ষয় কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, এই ঘটনা তারই একটি নির্মম উদাহরণ।






