
বন্ধ থাকা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সম্প্রতি রেলভবনে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী ৩৮তম বাংলাদেশ-ভারত আন্তসরকার রেলওয়ে মিটিং (আইজিআরএম) শেষে এই তথ্য জানানো হয়েছে। BDUS News 24-এর পাঠকদের জন্য এই বৈঠকের বিস্তারিত আপডেট নিচে তুলে ধরা হলো।
ট্রেন চালুর বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অবস্থান. বাংলাদেশ ভারত ট্রেন সার্ভিস আইজিআরএম বৈঠক
প্রায় দুই বছর ধরে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস—এই তিনটি আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে ট্রেনগুলো বন্ধ করা হয়নি, বরং ভারতীয় কর্তৃপক্ষই এগুলো বন্ধ রেখেছে। তাই ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার পরই কেবল বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখবে বাংলাদেশ।
পদ্মা সেতু দিয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর প্রস্তাব ও কারিগরি মূল্যায়ন
আইজিআরএম বৈঠকে ভারতীয় পক্ষ থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে নতুন রুট হিসেবে পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জানিয়েছে যে, বিষয়টি কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব আকারে পাঠাতে হবে। যেহেতু এর আগে পদ্মা সেতু দিয়ে কোনো আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল করেনি, তাই নতুন এই রুটে ট্রেন পরিচালনার জন্য কারিগরি ও অপারেশনাল সক্ষমতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে দেখতে হবে। বাংলাদেশ ভারত ট্রেন সার্ভিস আইজিআরএম বৈঠক
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চললে যাত্রাপথের দূরত্ব উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমবে, যার ফলে যাত্রীদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হওয়া সম্ভব। তবে দূরত্ব হ্রাসের পাশাপাশি টিকিটের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের বিষয়টিও দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবেচনায় নিতে হবে।
অন্যান্য রুট ও পণ্যবাহী ট্রেন নিয়ে আলোচনা
বন্ধ থাকা বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়টি এবারের বৈঠকের মূল আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও, গত বছরের আলোচনা এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। ভারতীয় পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিলে তা সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে আগের বৈঠকে সম্ভাব্য যাত্রীচাহিদার তথ্য ও সহায়ক নথি চেয়ে পাঠানোর পরও ভারতীয় পক্ষ থেকে এখনো নতুন কোনো তথ্য সরবরাহ করা হয়নি, যা এবারের বৈঠকে তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের রেলওয়ে সম্পর্কের বিষয়ে জানানো হয় যে, দুই দেশের রেলওয়ের মধ্যকার সম্পর্ক বরাবরই ভালো ছিল এবং এবারের বৈঠকে উভয়পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। গত বছর নিরাপত্তা নিয়ে কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও এবার সে বিষয়ে কোনো আলোচনা ওঠেনি। বরং পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে পর্যায়ের সমস্যাগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং উচ্চপর্যায়ের নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো যথাযথ প্রক্রიয়া সম্পন্ন করে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ভারত ট্রেন সার্ভিস আইজিআরএম বৈঠক






