Seized urea fertilizer sacks and arrested suspects during a Coast Guard operation by BCI Station Bhatiari. Image Source: Sangbad | Courtesy: BDUS News 24.
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্তবর্তী রুটগুলো ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের কৃষিকাজে ব্যবহৃত ইউরিয়া সার। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ডের সাম্প্রতিক নানা অভিযানে সারের একের পর এক চালান জব্দ হলেও থামছে না সীমান্ত পারাপার। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মতে, পাচার হওয়া এই ইউরিয়া সার কেবল কৃষিকাজে ব্যবহার হচ্ছে না, বরং মিয়ানমারের বেশ কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী এটিকে বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির কেমিক্যাল হিসেবে ব্যবহার করছে। মিয়ানমারে বিস্ফোরক তৈরিতে ইউরিয়া সার
আন্তর্জাতিক পাচারকারী সিন্ডিকেট ও রোহিঙ্গা সংযোগ
কক্সবাজার ও সীমান্ত এলাকার সূত্রগুলো জানাচ্ছে, সীমান্তজুড়ে আন্তর্জাতিক পাচারকারীদের অন্তত ১৫ থেকে ২০টি সক্রিয় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। চট্টগ্রাম, উখিয়া ও টেকনাফ কেন্দ্রিক এই চক্রগুলো ইউরিয়া সারের পাশাপাশি ব্যাটারির এসিড, কয়লা, চিনি, রড ও সিমেন্টের মতো নির্মাণসামগ্রী অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাঠাচ্ছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এক শ্রেণির রোহিঙ্গা চোরাকারবারি কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পণ্যগুলো সরাসরি কিনে নিচ্ছে মিয়ানমারের বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠন। এর মধ্যে আরাকান আর্মি (এএ), মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ), তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ), কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) এবং আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-এর নাম উঠে এসেছে।
মিয়ানমারে বিস্ফোরক তৈরিতে ইউরিয়া সার ব্যবহার
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সীমান্ত দিয়ে পার হওয়া ইউরিয়া সার নির্দিষ্ট কেমিক্যাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপজ্জনক বিস্ফোরকে রূপান্তর করা সম্ভব। রাসায়নিক দিক ব্যাখ্যা করে কক্সবাজার সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ জানান, কৃত্রিম ইউরিয়া সারে প্রায় ৪৬ শতাংশ নাইট্রোজেন বিদ্যমান থাকে। সাধারণ অবস্থায় এটি নিরাপদ হলেও কিছু রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় নাইট্রোজেন উপাদান আলাদা করে বিস্ফোরকের ‘প্রিকারসর’ বা পূর্বধাপের কাঁচামাল বানিয়ে ফেলা যায়। এমনকি পাচার হওয়া ব্যাটারির এসিডও এতে ব্যবহৃত হয়।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশিকা ‘CISA’-তেও ইউরিয়াকে বিস্ফোরক তৈরির অন্যতম কেমিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক কনস্যুলেট প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম মনে করেন, কারিগরিভাবে ইউরিয়া থেকে বোমা তৈরি সম্ভব হলেও কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সরাসরি এটি দিয়ে বোমা বানাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অবকাশ রয়েছে। তবে সার্বিকভাবে জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে সীমান্তে কড়া নজরদারি অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।
চাঁদপুরে কবর থেকে উত্তোলন করা হলো সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও অভিনেতা শান্ত খানের মরদেহ





