
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
শান্তি, নিরাপত্তা ও একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র বিনির্মাণে দেশের আলেম-ওলামাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, আলেম সমাজ সরাসরি সরকারে না থাকলেও তারা সবসময় সরকারের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় আলেম-ওলামাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী মাদরাসায় পৌঁছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত নির্বাচনের সময় আলেম-ওলামাদের পাশে পাওয়ায় দেশকে একটি বড় ধরনের সংকট ও বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল। তবে দেশের সমস্যা ও ষড়যন্ত্র এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। কিছু মহল থেকে এখনো দেশে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্বাচনের আগের মতোই নির্বাচনের পরেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের মানুষকে সঠিক পথ দেখানো এবং রাষ্ট্রকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব কেবল একা সরকারের নয়। আলেম সমাজেরও এখানে বড় ভূমিকা রয়েছে। জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাকে নিজের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের জন্য শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এর জন্য প্রয়োজনীয় হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, সড়ক ও মাদরাসার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও যোগ করেন, দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশৃঙ্খলা থাকলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়, তাই সমাজে শান্তি বজায় রাখতে আলেমদের অবদান রাখার অনুরোধ জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদসহ সরকারের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি ও হেফাজতে ইসলামের শীর্ষস্থানীয় আলেমবৃন্দ। আলেমদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত কওমি মাদরাসা সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, সরকার পর্যায়ক্রমে এসব বিষয় সমাধান করবে।






