
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের চরচাকলা গ্রামে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। পদ্মার একটি শাখা নদীতে গোসল করতে নেমে একই এলাকার পাঁচটি শিশু চিরকালের মতো না ফেরার দেশে চলে গেছে। এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে, যা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের স্তব্ধ করে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশুরা কেউ কাউকে না জানিয়ে দুপুরে জুমার নামাজের সময় গোপনে বাড়ির পাশের মরা নদীতে গোসল করতে নামে। নদীটি স্থানীয়ভাবে ‘মরা নদী’ নামে পরিচিত হলেও বর্ষা ও সাম্প্রতিক অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এতে পদ্মার পানি প্রবেশ করেছিল। বছরের অন্যান্য সময়ে নদীটিতে সাধারণত পানি থাকে না এবং এর তলদেশে স্থানীয় কৃষকরা বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বৃষ্টির কারণে হঠাৎ করে নদীর গভীরতা ও পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘসময় ধরে শিশুরা বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবার ও স্থানীয় লোকজন তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে নদীর পানিতে তল্লাশি চালিয়ে একে একে পাঁচটি শিশুর নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো শিশুরা হলো—চরচাকলা গ্রামের মো. মাসুদের দুই মেয়ে সুমাইয়া (১০) ও আরিবা (৮), মো. নিজামদ্দিনের দুই মেয়ে সুমাইয়া (১২) ও সুরাইয়া (৯), এবং শরিফুলের একমাত্র কন্যা শরীফা (১২)। একই গ্রামের পাঁচটি তরতাজা প্রাণ এভাবে ঝরে যাওয়ায় তাদের পরিবারগুলোর সদস্যদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না স্বজন ও প্রতিবেশীরা। চরচাকলা গ্রামের শোকস্তব্ধ পরিবেশ সবার হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চরচাকলা গ্রামে নদীতে গোসল করতে গিয়ে পাঁচ শিশুকন্যার মৃত্যুর খবরটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে গ্রামীণ অঞ্চলে নদী, খাল ও ডোবায় আকস্মিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়শই ঘটছে। সামান্য অসাবধানতা বা নজরদারির অভাবে শিশুদের জীবন বিপন্ন হতে পারে। তাই এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়াতে অভিভাবক ও সচেতন মহলের আরও বেশি সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুরা যেন নদী বা জলাশয়ে একা একা বা বড়দের অনুপস্থিতিতে গোসল করতে না নামে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নদী তীরবর্তী এলাকগুলোতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সৌদিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: শনাক্ত ৯ প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছাল, গ্রামে গ্রামে চলছে শোকের মাতম






