ছবি : সংগৃহীত
গোখরা সাপের কামড়
শখ মানুষের নানা রকম হতে পারে, তবে অনেক সময় সেই শখই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখের বসে ঘরে বিষধর সাপ পুষতে গিয়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী এক কাঠমিস্ত্রি। ঘরে লালন-পালন করা সেই গোখরা সাপের কামড় খেয়ে বর্তমানে হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ইকবাল হোসেন নামের ওই ব্যক্তি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে মাছ ধরার জালে একটি বিষধর সাপ আটকা পড়েছিল। পেশায় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন শখ করে সেই সাপটি উদ্ধার করে নিজের বাড়ি নিয়ে আসেন। এরপর সাপটির থাকার জন্য বিশেষভাবে একটি কাঠের বাক্স তৈরি করেন এবং প্রতিদিন নিয়ম করে মাছ ও ব্যাঙের মতো বিভিন্ন খাবার সরবরাহ করতেন।
বারণ সত্ত্বেও শখের বশে গোখরা পোষার খেসারত
ইকবালের এমন বিপজ্জনক শখ নিয়ে পরিবারে শুরু থেকেই অশান্তি চলছিল। তাঁর স্ত্রী রিনা আক্তার এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিষধর সাপটি বাড়িতে রাখতে বারবার নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু কারো কোনো বারণই শোনেননি ইকবাল। এমনকি সাপ পোষাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সঙ্গে তার বেশ কয়েকবার বিরোধও সৃষ্টি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই শখের গোখরা সাপের কামড়-ই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।
ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে যথারীতি বাক্স খুলে সাপটিকে খাবার দিতে যান ইকবাল। এ সময় হঠাৎ করেই সাপটি তাঁর হাতে কামড় দেয়। তীব্র ও অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে তিনি বিষয়টি তাঁর স্ত্রীকে জানান। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের দ্রুত সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
চিকিৎসকদের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ইকবালের শারীরিক পরিস্থিতি দেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেন চিকিৎসকরা। মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সাবিন ইশতিয়াক জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রোগীকে যখন আনা হয়, তখন তাঁর হাত সম্পূর্ণ ফুলে গিয়েছিল এবং তাঁর শরীরে বিষধর সাপের কামড়ের স্পষ্ট লক্ষণ বিদ্যমান ছিল।
বর্তমানে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে সরকারিভাবে বিনামূল্যে সরবরাহকৃত অ্যান্টিভেনম চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা আরও জানান, বিষধর কোনো প্রাণী কামড় দিলে ওঝা কিংবা কবিরাজের কাছে গিয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত। সঠিক সময়ে অ্যান্টিভেনম দেওয়া সম্ভব হলে রোগীর প্রাণ রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। এদিকে স্বামীর এমন বিপদের পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা ওই বিষধর সাপটিকে মেরে ফেলেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার। গোখরা সাপের কামড়
শাহজালাল বিমানবন্দরে স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন: অল্পের জন্য রক্ষা পেল স্থাপনা





