পুলিশ সুপারের প্রেস ব্রিফিং ছবি: প্রথম আলো
আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড
বাসার দরজার পাশে কাঠের ওপর খোদাই করে লেখা ছিল, ‘অপ্রতিমদের বাসা, প্রযত্নে নাহিদ ও শাহরিয়ার’। চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটটিতে ঢুকলেই চোখে পড়ত ছোট্ট ছেলেটির নানা বয়সের ছবি। কিন্তু সেই হাসি-খুশি মুহূর্তগুলো এখন কেবলই স্মৃতি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম ও মোবাইল অ্যাকসেসরিজ ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। সে কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
আজ রোববার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান তাঁর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান ও পঙ্কজ বড়ুয়াসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করে ফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অপরাধীরা।
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যা মামলায় তিন গ্রেপ্তার ও মোবাইল উদ্ধার
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ দেখতে পায়, ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বেলা আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলের দিকে যান সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯)। পরে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে সাইফুলকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, সাইফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও দুই কিশোরকে (১৫ ও ১৬ বছর বয়সী) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া সাইফুলের বাড়ি থেকে নিহতের মায়ের সেই আইফোনটি উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আগে কোনো পুলিশ রেকর্ড (পিসিপিআর) নেই। পাশাপাশি ১৯ বছরের আরেক তরুণকে আটক করে তাঁর সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে। কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যা

গ্রেপ্তারকৃত অপ্রতিমের খুনি ও উদ্ধার করা মোবাইলছবি: এসএ টিভি
অপরাধ চক্র নিয়ে পুলিশের বক্তব্য কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যা
সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কুমিল্লায় এ পর্যন্ত ২৫০ জনের বেশি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় মাদক বা কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্যের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, লালমাই পাহাড় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি এবং অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তান কখন, কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কখন বাড়িতে ফিরছে—এসব বিষয়ে মা–বাবাকে খোঁজ রাখতে হবে। বিশেষ করে অল্প বয়সী সন্তানদের হাতে ফোন বা গ্যাজেট তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
শোক ও প্রতিবাদ
শুক্রবার দুপুরে কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকার বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। দীর্ঘ ২২ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাধারণ শোক ঘোষণা করে সকল ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত রাখে। BDUS News 24 পোর্টালের পক্ষ থেকেও এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে।
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যা মামলার সর্বশেষ আপডেট জানুন BDUS News 24






