(ছবি: ফাইল ফটো | এডিট: বিডিইউএস নিউজ ২৪)
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলায় আহত হওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাসিন্দা জাফর আহমেদ। তবে পুলিশের দীর্ঘ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে বেরিয়ে এসেছে আসল সত্য। প্রকৃতপক্ষে আন্দোলনের কোনো সহিংসতায় তিনি জখম হননি; বরং মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জখম হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পারিবারিক মাদ্রাসা দখলের পারিবারিক বিরোধ ও শত্রুতার জেরে নির্দোষ মানুষকে ফাঁসাতে এই ভুয়া গল্প সাজানো হয়েছিল।
অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ১৫ মার্চে। এজাহারে বাদী দাবি করেছিলেন, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই সকালে ঢাকার মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় তিনি আহত হন। এতে ১৩ জন নামীয় এবং আরও ১৫০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। তবে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আকরামুজ্জামান তদন্ত শেষে নিশ্চিত করেছেন যে, জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়ার মিথ্যা মামলা করে ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করার চেষ্টা করেছিলেন বাদী।
তদন্ত প্রতিবেদন ও জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়ার মিথ্যা মামলা-র আসল রহস্য
তদন্ত কর্মকর্তা সম্প্রতি আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, জাফর আহমেদ রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় শিশুদের কুরআন শিক্ষা দিতেন। ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই ভোর পৌনে ৬টার দিকে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হন এবং সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে বিজয় সরণি মোড়ে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। দূর্ঘটনার পরপরই তিনি স্বজনদের ফোন করে বাইক সরিয়ে নিতে বলেন এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসার নথিপত্র ও হাসপাতাল রেজিস্ট্রি পর্যালোচনা করে স্পষ্ট জানা যায়, তিনি আন্দোলনে জখম হননি।
পুলিশের তদন্তে আরও উঠে আসে যে, বাদীর প্রয়াত বাবা আব্দুছ ছামাদ ১৯৭০ সালে মাদারীপুরের শিবচরের রাজার চরে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া কওমী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। বাবার মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব ও পদ-পদবি নিয়ে ভাই ও স্থানীয় শিক্ষকদের সঙ্গে জাফর আহমেদের দীর্ঘদিনের মনোমালিন্য চলছিল। একপর্যায়ে মাদ্রাসার একক নিয়ন্ত্রণ হারালে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক জুলফিকার আলী ভুট্টো, হেলাল উদ্দিন, আব্দুল্লাহ শাহীন, আব্দুর রহমানসহ অন্যদের জবরদস্তিমূলক অপরাধে ফাঁসাতে জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়ার মিথ্যা মামলা ঠুকে দেন।
আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ ও প্রশাসনিক তথ্য
মামলার ৪ নম্বর আসামি ও ওই মাদ্রাসার শিক্ষক হেলাল উদ্দিন জানান, ঘটনার দিন তারা সবাই মাদারীপুরের মাদ্রাসায় ছিলেন এবং বাদীর খামখেয়ালি মামলার কারণে অহেতুক হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তদন্তকালে দেখা গেছে, বাদীর নাম আন্দোলনকারীদের বা আহতদের সরকারি গেজেটেও নেই। ঘটনার সাথে আসামিদের কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন শাখার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে আগামী ২ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি ও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার দিন ধার্য করা হয়েছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করার দায়ে বাদীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে কি না, তা আদালতের নির্দেশের ওপর নির্ভর করছে।





