
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হলো। জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ এক ভোটাভুটির মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষস্থানীয় নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এটিই ছিল দেশের প্রথম কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল।
সংসদ ভবনে অবস্থিত জাতীয় সংসদে কঠোর নিরাপত্তা ও নিয়মমাফিক উপায়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী আইনপ্রণেতাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মোট ২৫৫টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও বিরোধী জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। সংসদ সদস্যদের এই রায়ের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তার যাওয়ার পথ সুগম হলো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত বেশ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলো সাধারণত একক প্রার্থীর মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হয়ে আসত। তবে দীর্ঘ আড়াই দশকেরও বেশি সময় পর একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণে এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গত জুলাই মাসে সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মাদ সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে নিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করায় এই পদটি শূন্য হয়েছিল। পরবর্তীতে সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলো।
শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা শেষ করা মির্জা ফখরুল দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মূলধারার রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছেন। ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি শিক্ষকতা পেশার সাথেও যুক্ত ছিলেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষস্থানীয় দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। দেশের দুর্দিনেও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা দিয়ে যিনি দলকে সংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তিনি এবার রাষ্ট্রপতির মতো মর্যাদাপূর্ণ ও নিরপেক্ষ সাংবিধানিক দায়িত্বে প্রবেশ করছেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ফলাফল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নিয়ম অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে বঙ্গভবনে তার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। দেশের এই সংকটময় ও সম্ভাবনাময় সময়ে নতুন রাষ্ট্রপতির হাত ধরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারা আরও সুদৃঢ় হবে বলে দেশবাসী প্রত্যাশা করছে।






