জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর প্রতিকৃতি প্রতীক। (ছবি: এআই ও গ্রাফিক্স দ্বারা তৈরি / ফটো এডিটিং: BDUS News 24)
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাস সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিমার্জন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এর মধ্যে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার ঐতিহাসিক বিবরণ।
গত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও এই বিবরণীতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এর ফলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান শাসন আমলের ধারায় পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার উপস্থাপনায় ভিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা পরিমার্জন এবং মুদ্রণ পরিস্থিতি
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের সাধারণ শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন শেষে বই ছাপানোর মূল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন ছাপাখানায় বর্তমানে মুদ্রণের কাজ পুরোদমে চলছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কিছু বিষয়ের বই মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে।
সপ্তম শ্রেণির বইয়ে পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা পরিমার্জন সম্পর্কিত তথ্য
পরিমার্জিত ২০২৭ সালের সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যবইয়ের প্রথম অধ্যায়ে ‘বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও গণ-আন্দোলন’ শিরোনামে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ২৫শে মার্চের কালরাত, মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এবং ৩০ লাখ শহীদের মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত সার্বভৌম বাংলাদেশের কথা উল্লেখ রয়েছে।
বইয়ের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরীহ মানুষের ওপর আক্রমণ চালায়। এরপর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস থেকে এই আক্রমণের খবর তারবার্তার মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একই রাতে শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হলে দেশের মানুষ এক ধরনের নেতৃত্বশূন্যতা অনুভব করে।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মেজর জিয়াউর রহমান “উই রিভল্ট” বলে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। এরপর ২৬শে মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে ব্যাটালিয়নের অন্যান্য বাঙালি অফিসার ও সৈনিকদের সাথে একত্র হয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সশস্ত্র লড়াই শুরু করেন।
পরবর্তীতে কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ২৭শে মার্চ সন্ধ্যায় মেজর জিয়াউর রহমান অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও লিবারেশন আর্মির সর্বাধিনায়ক হিসেবে স্বাধীনতা ঘোষণা দেন। এরপর রেডিও থেকে প্রচারিত অপর এক ঘোষণায় তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির অস্থায়ী সর্বাধিনায়ক হিসেবে স্বাধীনতার কথা তুলে ধরেন, যা মুক্তিকামী বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
সর্বশেষ আপডেট: এনসিটিবির পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম
পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী এই বইগুলো আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হবে। এনসিটিবি নিশ্চিত করেছে যে ঐতিহাসিক সত্য বজায় রেখে সহজ ও তথ্যসমৃদ্ধ উপায়ে শিক্ষার্থীদের কাছে দেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরাই এই পরিমার্জনের মূল লক্ষ্য।
১৬ই ডিসেম্বরের মহান বিজয় অর্জনের মাধ্যমে যেভাবে ২৪ বছরের পাকিস্তানি শাসন ও বৈষম্যের অবসান ঘটেছিল, সেই বীরত্বপূর্ণ ইতিহাসই নতুন পাঠ্যপুস্তকে গুরুত্বের সাথে স্থান পাচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: প্রতীক পেলেন ৫ প্রার্থী, জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ





