
জাতীয় সংসদে বিএনপির সমালোচনা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল’-এর ওপর সাধারণ আলোচনা চলাকালে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল BDUS News 24-এর পাঠকদের জন্য সংসদে ঘটে যাওয়া এই রাজনৈতিক উত্তাপ ও বিশদ বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো। রুমিন ফারহানা সংসদ হট্টগোল
ব্যাংক রেজোল্যুশন বিল নিয়ে আলোচনায় রুমিন ফারহানার কঠোর সমালোচনা
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালীন ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সেখানে অংশ নেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। নিজের বক্তব্যে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সরকারের শাসন আমলের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক সরকারের নিজস্ব কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য থাকে। বিএনপির শাসনামলে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট এবং সারের ঘাটতির কারণে কৃষকদের সার কারখানায় গিয়ে সার লুটের মতো অনভিপ্রেত ঘটনা অতীতে বারবার ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় রুমিন ফারহানা আরও অভিযোগ করেন যে, বিএনপির পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দেশ দুর্নীতির সূচকে শীর্ষে অবস্থান করেছিল এবং সেই সময়ে দেশের ঋণখেলাপির পরিমাণ ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সংসদকে একটি ‘অসহিষ্ণু’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করে তিনি দাবি করেন, এই সংসদের অধিকাংশ সদস্যই মূলত ঋণখেলাপি, যারা নির্বাচনের ঠিক আগে উচ্চ আদালতের বিশেষ রিটের মাধ্যমে নিজেদের নাম তালিকা থেকে কাটিয়ে আসেন।
সরকারি দলের হট্টগোল, মাইক বন্ধ এবং অশালীন গালির অভিযোগ
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এমন কঠোর ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পরই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা সমস্বরে চিৎকার ও হট্টগোল শুরু করলে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম মুহূর্তের মধ্যে বিঘ্নিত হয়। নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে তার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হলেও তিনি দাঁড়িয়ে মাইক্রোফোন ছাড়াই কথা চালিয়ে যান। রুমিন ফারহানা সংসদ হট্টগোল
এ সময় স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন যে, বক্তব্য প্রদানকালে সরকারি দলের বেঞ্চ থেকে তাকে উদ্দেশ করে অত্যন্ত অশালীন ও আপত্তিকর ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদও নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং একজন নারী ও সম্মানিত সংসদ সদস্যকে এভাবে প্রকাশ্যে গালিগালাজ করার নিন্দা জানান।
ডেপুটি স্পিকার ও শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপ. রুমিন ফারহানা সংসদ হট্টগোল
সংসদে হট্টগোল ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল দ্রুত হস্তক্ষেপে সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার কঠোর নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, সংসদের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক সদস্যেরই নিজস্ব মতামত ও বক্তব্য উপস্থাপনের পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। বক্তব্য চলাকালে এ ধরনের বাধা সৃষ্টি করা সংসদীয় রীতিনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, কোনো সদস্যের বক্তব্য যদি অসংসদীয় বা নিয়বহির্ভূত হয়, তবে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার একক এখতিয়ার স্পিকারের রয়েছে। একই সঙ্গে হাউসের সামগ্রিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিজ দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য চিফ হুইপকে বিশেষভাবে দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের বক্তব্য অসংসদীয় মনে হলে স্পিকার সে বিষয়ে রুলিং দিতে পারেন কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী তার যথাযথ রাজনৈতিক জবাব দিতে পারেন। অন্যদিকে, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি দাবি করেন যে, বর্তমান সরকার একটি অত্যন্ত ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামোর উত্তরাধিকার পেয়েছে এবং এই সংকটময় সময়ে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আরও বেশি সংযত হওয়া উচিত। সবশেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের প্রধান অর্থনৈতিক সংস্কার বিলের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে বিতর্ক তৈরি করা অত্যন্ত দুঃখজনক। রুমিন ফারহানা সংসদ হট্টগোল






