
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। দলের সভাপতি শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে কে দলের নেতৃত্ব দেবেন বা শীর্ষ পদের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে দীর্ঘ দুই বছর ধরে গুঞ্জন ছিল। তবে সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’-এর এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন খোদ দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। BDUS News 24-এর পাঠকদের জন্য এ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।
শেখ সেলিমের কাঁধে দলীয় দায়িত্ব অর্পণের ইঙ্গিত . শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব
সাক্ষাৎকার সূত্রে জানা গেছে, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে দলের সভাপতিমণ্ডলীর (প্রেসিডিয়াম) সদস্য এবং শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিম তার অনুপস্থিতিতে দলের হাল ধরবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৭৬ বছর বয়সী বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শেখ হাসিনা নিজেই জানিয়েছেন যে, তার অবর্তমানে শেখ সেলিমই দলীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ছোট বোন শেখ রেহানা সরাসরি সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত নন বলেও তিনি পরিষ্কার করেছেন।
আইনি জটিলতা ও বর্তমান সাংগঠনিক বাস্তবতা
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন থানায় দলটির শীর্ষ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমন এক কঠিন সময়ে শেখ সেলিমের মতো জ্যেষ্ঠ নেতা দলের অভ্যন্তরীণ বা অপ্রকাশ্য কার্যক্রমে কীভাবে ভূমিকা রাখবেন এবং নেতৃত্ব কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা রয়েছে। শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব
ডিসেম্বরে দেশে ফেরা ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শঙ্কা
আলোচিত ওই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার দৃঢ় সিদ্ধান্তের কথা পুনরায় ব্যক্ত করেছেন। বিজয়ের মাস হিসেবে ডিসেম্বরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষ বর্তমান সময়ে নানা কষ্টে দিন কাটাচ্ছে দাবি করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানান তিনি। তবে দেশে ফিরলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই তাকে হত্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। নিজের এই রাজনৈতিক ফেরার পদক্ষেপে অন্য কোনো নেতাকর্মী বা সমর্থক যাতে আইনি বা শারীরিক বিপদের মুখে না পড়েন, সে বিষয়েও তিনি সতর্কবার্তা দেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভাবনা
সাক্ষাৎকারের শেষভাগে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে ভারতের ভূমিকা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য দেশ ফেরা নিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা। তিনি মন্তব্য করেন যে, কোনো ধরনের সামরিক জোটের ওপর নির্ভর না করে আঞ্চলিক পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি। BDUS News 24-এর পক্ষ থেকে এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সার্বিক ডেভেলপমেন্টের সর্বশেষ আপডেট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব
সর্বশেষ রাজনৈতিক আপডেট ও বিশ্লেষণ পড়তে BDUS News 24 ভিজিট করুন






