সংগৃহীত ছবি
দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। নতুন এই বোর্ড পোশাক খাতের শ্রমিকদের বিদ্যমান জীবনযাত্রার ব্যয়, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি এবং মালিকপক্ষের সক্ষমতা পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামোর চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে পেশ করবে।
হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু হলে বিল মওকুফ: জনমতের প্রস্তাব ও চিকিৎসাসেবায় এর সম্ভাব্য প্রভাব
পোশাক কারখানাগুলোতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ এবং শিল্পাঞ্চলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই রোববার (১ নভেম্বর) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ৬ সদস্যবিশিষ্ট এই বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। সরকার ইতিমধ্যে বোর্ডের সদস্যদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেছে এবং প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এটি কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন
পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ডের রূপরেখা
সরকার গঠিত এই নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন সিনিয়র জেলা জজ শেখ আশফাকুর রহমান। এ ছাড়া বোর্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও বিজিএমইএ-এর পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন এবং শ্রমিক প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন যুক্ত রয়েছেন।
বর্তমানে দেশে পোশাক খাতের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন তৈরি পোশাকের মাসিক মজুরি রয়েছে ১২ হাজার ৫০০ টাকা। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি, বাসস্থান, পরিবহন ও চিকিৎসার খরচ সমন্বয় করে শ্রমিকরা সর্বনিম্ন বেতন বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। এই দাবির মুখেই মূলত গঠিত মজুরি বোর্ড দ্রুততম সময়ে সভা আহ্বান করবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সমন্বিত সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে প্রকাশ করবে।
আন্দোলন পরিহার করে কাজে ফেরার তাগিদ
সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুর ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন পোশাক শিল্পাঞ্চলে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে, যা অনেক কারখানার উৎপাদন সাময়িকভাবে ব্যাহত করেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শ্রমিকদের প্রতি সহিংসতা ও রাস্তা অবরোধের পথ পরিহার করে কারখানায় ফিরে যাওয়ার বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি স্পষ্ট জানান যে, কারখানাগুলোতে বিশৃঙ্খলা অব্যাহত থাকলে উৎপাদন এবং বিদেশি ক্রেতাদের কাছে যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা শেষ পর্যন্ত অর্থনীতি ও শ্রম খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতৃত্বের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধ এবং প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে নিয়মিত বেতন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি আশ্বাস দেন। সব মিলিয়ে পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন সংক্রান্ত বোর্ডের দ্রুত সুপারিশই আগামী দিনে পোশাক খাতের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রকাশ





