হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও চিকিৎসাসেবার একটি দৃশ্য। (ছবি সংগ্রহ: বাংলাদেশের খবর / bangladesherkhabor.net | ক্যানভা এডিট ও গ্রাফিকস: BDUS News 24)
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা খাতের একটি সংবেদনশীল দাবি ব্যাপকভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে। নেটিজেনদের একাংশ দাবি করছেন, হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু হলে বিল মওকুফ করার বিধান রেখে সরকারের সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করা উচিত। তাঁদের যুক্তি, এমন আইন থাকলে চিকিৎসকেরা রোগীকে বাঁচানোর জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা বিলিয়ে দেবেন। এই বিষয়টি নিয়ে সাধারণ নাগরিক, রোগী ও চিকিৎসক মহলে সৃষ্টি হয়েছে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও নিবিড় বিশ্লেষণ।
সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরির মূল কারণ হলো দেশের বিভিন্ন বেসরকারি ও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয়ের তীব্র চাপ। জটিল ও সংকটজনক পরিস্থিতিতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) বা কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যবস্থায় রোগী দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকলে বিশাল পরিমাণের আর্থিক বিল তৈরি হয়। অনেক সময় রোগীর মৃত্যু হলেও পরিবারের সদস্যরা সেই মোটা অঙ্কের বিল পরিশোধ করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন। ফলে এ ধরনের প্রস্তাবে সাধারণ নাগরিকদের একটি বড় অংশ সমর্থন প্রকাশ করছেন।
হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু হলে বিল মওকুফ আইন বাস্তবায়ন ও এর নানা দিক
তবে চিকিৎসা ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যনীতির নিরিখে বিশ্লেষকরা হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু হলে বিল মওকুফ সংক্রান্ত প্রস্তাবে নানাবিধ বাস্তব চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেছেন। চিকিৎসক ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে ১০০% নিশ্চয়তা দিয়ে কোনো সংকটজনক রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা সর্বাবস্থায় সম্ভব নয়। যদি মৃত্যু হলেই সম্পূর্ণ বিল মওকুফের আইন বাধ্যতামূলক করা হয়, তবে জটিল বা আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালগুলো ভর্তি নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করতে পারে, যা বাস্তবে জটিল রোগীদের জীবন আরও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
পিরোজপুরে সাঈদীর মামলার সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ ১৫ ঘণ্টা পর পুলিশ পাহারায় দাফন
এছাড়া ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জটিল যন্ত্রপাতির ব্যবহার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যার একটি স্থায়ী খরচ রয়েছে। তাই বিল সম্পূর্ণ মওকুফ করার চেয়ে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা গঠন, বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় নির্ধারণ, স্বাস্থ্য বীমা চালুকরণ এবং অসচ্ছল পরিবারের ক্ষেত্রে কল্যাণ তহবিল থেকে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ সহায়তার বিধান রাখাই অধিক যৌক্তিক পদক্ষেপ হতে পারে বলে মতামত বিশেষজ্ঞদের।
জনমত ও স্বাস্থ্যসেবার ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসা এই প্রস্তাবটি মূলত চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করা এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসার বোঝা কমানোর একটি আর্জি। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সুশাসন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রোগী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে ট্রাস্ট বা আস্থার সম্পর্ক জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।
অনেকেই মনে করেন, হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু হলে বিল মওকুফ পুরোপুরি না হলেও, অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে কোনো অতিরিক্ত বা কৃত্রিম খরচ যেন চাপানো না হয়—সে বিষয়ে কঠোর সরকারি তদারকি ও নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। চিকিৎসাসেবা খাতের সার্বিক সংস্কার এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যয়কে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনাই হতে পারে এর একটি কার্যকর স্থায়ী সমাধান।
ঢাকায় শুরু হলো ৮ম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি সেমিনার, নিরাপদ আকাশ গড়ার ওপর জোর





