সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দিচ্ছেন ভারতের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। (ছবি: আইএএনএস (IANS) / ফটো সম্পাদনা ও ক্যানভা এডিট: BDUS News 24)
ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর সাম্প্রতিক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভকে ঘিরে রাজপথে যে উত্তাপ ছড়িয়েছে, তা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) উত্তরপ্রদেশের লক্ষ্ণৌতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানকালে ভারতের ৭৩ বছর বয়সী প্রবীণ এই শীর্ষ বিজেপি নেতা দাবি করেন, দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে অগণতান্ত্রিক উপায়ে শাসনক্ষমতা দখলের চক্রান্ত চালানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ মডেলে ভারতে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র এবং তরুণ সমাজকে ব্যবহারের অভিযোগ
লক্ষ্ণৌর রাজনৈতিক মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় রাজনাথ সিং অভিযোগ করেন, বিরোধী দল কংগ্রেস এবং কিছু সংগঠন তরুণদের ভুল বুঝিয়ে রাজপথের আন্দোলনে নামাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশ মডেলে ভারতে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে যুবসমাজকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করার এক বিপজ্জনক অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সম্প্রতি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করে, বিরোধীরা প্রকাশ্যে বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার কথা স্বীকার করছে।
এমনকি জেন-জি বিক্ষোভকারীদের একাংশ অরাজকতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কেন্দ্র সরকারকে পতনের ডাক দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করা হয়।
নির্বাচনী সংস্কার বনাম সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার চেষ্টা
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এই প্রতিবাদ ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) কিংবা সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নয়। বরং এটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার একটি গভীর চক্রান্ত।
তিনি কংগ্রেসের অতীত রেকর্ড স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ১৯৯৩ সালে কংগ্রেস সরকার রাতারাতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে বিতর্কিত পরিবর্তন এনে নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের হাতের পুতুলে পরিণত করেছিল।
পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধী নেতাদের বোঝা উচিত যে গণতন্ত্র কাউকে সহিংসতার রাজনীতি করার অনুমতি দেয় না।
অরাজক রাজনীতির বিরুদ্ধে বিজেপির কড়া অবস্থানের বিষয়ে সর্বশেষ আপডেট
প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ ও আন্দোলনকারী নেতাদের সম্প্রতি করা কিছু মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।
বিজেপি সমর্থক ও বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, নেপাল ও বাংলাদেশের ঘটনার পর একটি বিশেষ গোষ্ঠী ভারতেও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইছে।
তবে রাজনাথ সিং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে ভারতের সংবিধবান ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা করা হবে এবং সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের যেকোনো অপচেষ্টা নস্যাৎ করা হবে।
২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ স্বাধীনতার ঘোষণায় আসছে নতুন পরিমার্জন





