গাছের ডালে বসে থাকা সৌন্দর্যমণ্ডিত রঙিন মাছরাঙা পাখি।(মূল ছবি: ক্যাম্পাস টাইমস / ফটো সম্পাদনা ও ক্যানভা এডিট: BDUS News 24)
উজ্জ্বল পালক ও অনন্য শিকার কৌশলের জন্য গ্রামবাংলার মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও পছন্দের একটি পাখি হলো মাছরাঙা। গ্রামের আঁকাবাঁকা পথের পাশে থাকা ছোট-বড় পুকুরের পাড়ে কিংবা বাঁশের খুঁটিতে এক পায়ে নিশ্চুপ বসে থাকার দৃশ্য গ্রামীণ রূপসী প্রকৃতির এক চিরন্তন চিত্রায়িত রূপ।
মাছ শিকারের নিখুঁত দক্ষতা আর বর্ণিল সৌন্দর্যের কারণে এই পাখিটি খুব সহজেই সবার নজর কাড়ে। তবে সময় ও পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে সাথে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই অনন্য শিকারি পাখির উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে।
গ্রামবাংলার রঙিন শিকারি মাছরাঙা কেন কমছে এবং এর প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, নদী তীরবর্তী এলাকা এবং মেঠো পথের পাশের পুকুরগুলোতে একসময় প্রচুর মাছরাঙা দেখা যেত। উপকূলীয় পরিবেশের কারণে এই অঞ্চলগুলোতে পাতি মাছরাঙার প্রভাব বেশি থাকলেও সাদাবুক, বাদামিডানা, কলার্ড, ছোট ও পাকড়া মাছরাঙাসহ বৈচিত্র্যময় প্রজাতির বিচরণ রয়েছে।
যেখানেই সামান্য জলাশয় কিংবা ছোট পানির ধারা থাকে, সেখানেই গাছের ডাল বা খুঁটিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে শিকারের জন্য ওত পেতে থাকে এরা। সুযোগ বুঝে দ্রুতগতিতে পানিতে ডুব দিয়ে মাছ ধরে নেওয়াই এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। মাছ এদের মূল খাদ্য হলেও ছোট কীটপতঙ্গ, ব্যাঙ এবং সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীও এদের খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকে।
জলাশয় সংকট ও পরিবেশগত বিরূপ প্রভাব
জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মাছরাঙা অ্যালসিডিনিস উপবর্গের অন্তর্ভুক্ত, যার অধীনে গাঙ, গেছো ও পান মাছরাঙা নামে প্রধান তিনটি গোত্র রয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯০ প্রজাতির মাছরাঙার সন্ধান পাওয়া যায়। এদের বেশির ভাগেরই দেহের তুলনায় মাথা বড়, ঠোঁট সুঁচালো ও ধারালো এবং পা খাটো হয়। জলাশয়ের পাশের খাড়া মাটিতে কিংবা পাড়ে গর্ত খুঁড়ে এরা সাধারণত বাসা তৈরি করে ডিম পাড়ে।
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শুভেন্দু সরকারের মতে, অনিয়ন্ত্রিত পাখি শিকার, স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষেত্র হ্রাস এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ের ঘাটতির কারণে গ্রামগঞ্জে মাছরাঙার বিচরণ কমে গেছে। জলাশয় শুকিয়ে যাওয়া ও ভরাট হওয়ার ফলে এরা নিরাপদ আবাস ও বাসা তৈরির উপযুক্ত স্থান পাচ্ছে না।
অস্তিত্ব রক্ষায় বৈশ্বিক ও স্থানীয় সচেতনতার সর্বশেষ আপডেট
জমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার, বন ও গাছপালা উজাড়, পরিবেশদূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মাছরাঙার মতো জলাশয়নির্ভর পাখিরা খাদ্যসংকটে পড়ছে। কীটনাশক মিশ্রিত পানি ও খাদ্য গ্রহণ তাদের বংশবৃদ্ধিতেও মারাত্মক বাধা তৈরি করছে।
প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষা, গাছপালা কাটা বন্ধ করা এবং পাখিদের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে না পারলে গ্রামবাংলার রঙিন শিকারি মাছরাঙা কেন কমছে—এই প্রশ্নটি ভবিষ্যতে আরও জটিল আকার ধারণ করবে এবং একসময় এই সুদৃশ্য পাখিটি আমাদের পরিবেশ থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া সারে মিয়ানমারে বিস্ফোরক তৈরির মারাত্মক উদ্বেগ





